মালদার মোথাবাড়িতে হিন্দুদের ঘর-বাড়ি ও দোকানে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ। আর সেই অবরোধ তুললে শূন্যে গুলি চালানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ইংরেজবাজার লাগোয়া বাঁধাপুকুর এলাকা। অবরোধ হঠাতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।বৃহস্পতিবার মোথাবাড়িতে একটি ধর্মীয় মিছিল থেকে হিন্দুদের বাড়ি ও দোকানে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিজেপি। সেই হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ইংরেজ বাজার শহর লাগোয়া বাঁধাপুকুরে পথ অবরোধ করে বিজেপি। এই বাঁধাপুকুর মোড়েই জাতীয় সড়কে এসে পড়ে মোথাবাড়ির সঙ্গে ইংরেজ বাজারের সংযোগকারী সড়র। বিজেপির অবরোধ তুলতে সেখানে হাজির হয় প্রচুর পুলিশ। এরই মধ্যে এলাকায় একটি পথ দুর্ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা ছড়ায়। এর পর অবরোধকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন পুলিশ আধিকারিকরা। কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন অবরোধকারীরা।অভিযোগ, এর পর অবরোধ তুলতে লাঠি চার্জ শুরু করে পুলিশ। পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শূন্যে গুলি চালায় বলে দাবি অবরোধকারীদের। ওদিকে পথ অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। অবরোধ তুলে পুলিশ গাড়িগুলিকে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও অবরোধকারীরা বাধা দিতে থাকেন। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছে আরও বাহিনী।ওদিকে মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল মোথাবাড়ি থানায় যাচ্ছিল। এই দলে ছিলেন দক্ষিণ মালদার বিজেপি সভাপতি অজয় গাঙ্গোপাধ্যায়, মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা, গাজল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন এবং রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়। ইংরেজ বাজার থানার সাদুল্লাপুর এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিনিধি দলটির পথ আটকে দেয়। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের মোথাবাড়ি যেতে বাধা দিচ্ছে। যাতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানতে না পারেন। যদিও, পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।