সাধারণত পঞ্চায়েত এলাকায় ইনকাম সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট পেতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায় নাগরিকদের। পঞ্চায়েত অফিসে গেলে অনেক সময় প্রধানকে পাওয়া যায় না, আবার বাড়ি গিয়েও অনেক সময় দেখা মেলে না পঞ্চায়েত প্রধানের। ফলে সেক্ষেত্রে এই ধরনের সার্টিফিকেট পেতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জরুরি ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হয়। এবার এই যাবতীয় সমস্যার সমাধান হতে চলেছে এক ক্লিকেই। এই সংক্রান্ত সার্টিফিকেটের জন্য আর ছুটতে হবে না পঞ্চায়েত অফিসে। বাড়িতে বিয়ে বসেই পাওয়া যাবে এই ধরনের সার্টিফিকেট। এরজন্য একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ আনছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর। (আরও পড়ুন: ওবাংলা পেল নয়া মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, ২০২৬'র ভোটের সময় দায়িত্বে থাকবেন এই IAS…)
আরও পড়ুন: ☂প্রধানের পদে থেকেই নাইট গার্ড হিসেবে বেতন তোলার অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা
𝓰সূত্রের খবর, এই অ্যাপে মোবাইলের মাধ্যমে ইনকাম সার্টিফিকেট, ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট, ডিসটেন্স সার্টিফিকেট সহ ৬ ধরনের সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনের সাত দিনের মধ্যেই সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। সম্প্রতি এই মর্মে সার্কুলার জারি করেছে পঞ্চায়েত দফতর। কয়েকদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন, সব পঞ্চায়েতকে স্মার্ট করে তোলা হবে। অনলাইনে বিভিন্ন কাজ হবে। এছাড়া, সব গ্রামকে স্বচ্ছ রাখার জন্য সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। পুরসভা এলাকার মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের যে সমস্ত গেস্ট হাউস বা হোম স্টে রয়েছে সেগুলিও অনলাইনে বুকিং করা যাবে।
আরও পড়ুন: 🍨দক্ষিণবঙ্গে পারদ চড়বে আরও, দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা
🧸পঞ্চায়েতের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। এছাড়াও অনেক সময় সার্টিফিকেট পেতে গিয়ে টাকার দাবিও ওঠে কর্মীদের বিরুদ্ধে। অনলাইনে আবেদন চালু হলে আর কেউ টাকা চাইতে পারবেন না। পঞ্চায়েত এলাকায় ট্যাক্সও অনলাইনে প্রদান করা সম্ভব হবে। সাধারণত কিছু পুরসভা এলাকায় এই ধরনের সুবিধা চালু রয়েছে। এবার পঞ্চায়েতগুলিতেও এই ধরনের সুবিধা চালু হয়ে যাবে।
𓄧এ বিষয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতে খুব দ্রুত অনলাইন পরিষেবা চালু হবে। এরফলে কাজ যেমন স্বচ্ছ হবে, তেমনি কাজে গতি আসবে, নাগরিকদের হয়রানিও কমবে।
▨অনলাইনে আবেদন করার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এখন কমবেশি সব পরিবারের স্মার্টফোন রয়েছে। স্মার্টফোন থেকেই তাঁরা আবেদন জানাতে পারবেন। যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন তাঁরা বাংলা সহায়তা কেন্দ্র থেকেও আবেদন করতে পারবেন। এদিকে, অনলাইনে কাজের জন্য ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতগুলিতে উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এবার ধাপে ধাপে সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।