বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে রাজনীতিক পরিসরে সেনার 'হস্তক্ষেপ' নিয়ে সরব হাসিনা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এহেন পরিস্থিতিতে মহম্মদ হাসিবুল ইসলাম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমন্বয়ক ২১ মার্চ একটি পোস্ট করে সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাঙার নিদান দিয়েছিলেন। তবে সেই পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন হাসিবুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তথাকথিত 'বিপ্লবীদের' আচরণ অবশ্য সেনাবাহিনী কোন চোখে নিচ্ছে, তা বলা হয়ত খুব একটা কঠিন না। আর এই সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বেশ ধোঁয়াশায় ভরা। আন্দোলনকারী ছাত্র এবং নতুন দল খোলা হাসনাতদের অভিযোগ, আওয়ামি লিগকে ফেরাতে গোপন ষড়যন্ত্র করছে সেনা। এই নিয়েই পরপর পোস্ট করেছেন এই হাসিবুল। (আরও পড়ুন: ভারতের 'ওয়ান্টেড' ꦯঅপরাধীকে জামাই আদর নওয়াজ শরিফের, ইসলামাবাদকে ধুয়ে দিল MEA)
আরও পড়ুন: 'ধমক' খাওয়া হাসনাতের সাহস কিন্তু কম☂ না! বাংলাদেশ সেনাকেই চ্যালেঞ্জ NCP নেতཧার…
গতকাল সেনার বিরুদ্ধে প্রথমে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন হাসিবুল। সেখানে দেখা যাচ্ছে এক সেনাকর্মীকে লাথি মারছেন এক ব্যক্তি। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, 'ওকে!?' এরপর তিনি আরও একটি পোস্টে লেখেন, 'উত্তর পাড়ার মোড়লরা (সেনার উর্ধ্বতন আধিকারিকরা) আওয়ামি রাজনীতি ফেরানোর পক্ষে হতে পারে কিন্তু উত্তর পাড়ার সবাই আওয়ামি রাজনীতি ফেরানোর পক্ষে নয়। উত্তর পাড়ার মোড়লরা ৩রা অগস্টের মিটিংয়ে শুরু দিকে গণহত্যাকারীদের সাফাই গেয়েছিলো সেটা আমাদের অজানা নয়। পরবর্তীতে আমাদের বিপ্লবী সহযোদ্ধাদের বিদ্রোহে মোড়লরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হয়। সময় এসেছে দিল্লিপন্থী এসব মোড়লিপনা সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার। বাংলাদেশপন্থী বিপ্লবী সৈনিক ভাইদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। ওরা জুলাইকে নস্যাৎ করতে চায়, জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।' (আরও পড়ুন: ট্রুডো জমানায় ভারত-কানাডা সম্পর্ক ঠেক🍨ে তলানিতে, নয়া PM মার্ককে কী বার্তা ভারতের)
আরও পড়ুন: 'ওরা মদে আসক্ত', হিন্দুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য AAP বিধায়কের, উঠল বিক্ষ🌱োভের ঝড়

এরপ♊র উত্তেজনার বসে সরাসরি সেনার গাড়ি দেখলেই হামলার নিদানও দিয়ে বসেন হাসিবুল। এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে আর্মি কিংবা বিজিবিকে টহলের অনুমতি দেয়নি। ঢাবি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে আর্মি কিংবা বিজিবি টহল দিলে সেই গাড়ি ভেঙে ফেলবেন। এই হু🍒কুমের জন্যে জেল কিংবা ফাঁসি যাই হোক আমি প্রস্তত। বাংলাদেশের রাজনীতি জেনারেলরা নয়, নির্ধারণ করবে চব্বিশের ছাত্র-শ্রমিক-সৈনিক-জনতা।'
পরে অবশ্য এই পোস্টের জন্যে ক্ষমা চেয়ে আরও একটি পোস্ট করেন এই সমন্বয়ক। তখন তিনি সাফাই দেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সৈনিকদের ♌বিশাল অংশের বিদ্রোহের কারণে জুলাই বিপ্লবে সেনাবাহিনীর মোড়লরা ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। গত পোস্টে কারণে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। শুধু চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেই পোস্টটি করেছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বস্ত করেছেন ক্যাম্পাসে আর্মি কিংবা বিজিবি টহল দেবে না। তবে আওয়ামি লিগের রাজনীতি ফেরানোর জন্য অনেক বড় ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র আমাদের রুখে দিতে হবে। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে আমাদের এক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে কেউ যাতে❀ আমাদের আওয়ামি লিগের বিচারের দাবি থেকে দূরে সরিয়ে না নিতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আওয়ামি লিগকে সাংগঠনিকভাবে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করতে হবে।'