আট বছরের পুরোনো একটি মামলায় আগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন 'হেভিওয়েট' নেতানেত্রী। শুক্রবার (২৮ মার্চ, ২০২৫) তাঁদের সকলেরই সাজা ঘোষণা করল আদালত। অসুস্থতার কারণে এক দোষীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বাকিদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সেই সাজার মেয়াদ ১০ বছর।ঘটনা ঠিক কী?সালটা ছিল ২০১৭। সেই সময়েই অশান্তির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতানেত্রীদের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। সেইসব অভিযোগে মধ্য়ে ছিল - মারধর, খুনের চেষ্টা, অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা প্রভৃতি।অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন সেই সময়কার একাধিক পদাধিকারী। যথা - বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী কাকলি তা গুপ্ত, ওই ব্লকেরই দলের যুব সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানস ভট্টাচার্য, তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান কার্তিক বাগ এবং রায়ান-১ অঞ্চলের সভাপতি শেখ জামাল-সহ মোট ১৩ জন।গত সোমবার (২৪ মার্চ, ২০২৫) এই মামলায় অভিযুক্ত ১৩ জনকেই দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সেইসঙ্গে, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় দোষী প্রত্যেককে গ্রেফতার করতে হবে। সেদিন ওই নির্দেশ দেন ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র।সেই দিনই আদালত থেকে সংশোধনাগারে যাওয়ার পথে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন সদ্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া কাকলি, মানস, কার্তিক এবং জামাল। তাঁদের সকলকেই সেই সময় বর্ধমান মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাকলি বলেন, তাঁর বুকে ব্যথা করছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ইসিজি করানো হয় এবং তাতে সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় - বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ‘উইংস’ অনাময় সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।ঠিক ছিল, গত মঙ্গলবারই এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। কিন্তু, ওই দিন দোষী ১৩ জনের সকলে আদালতে হাজির হননি। ফলে রায় ঘোষণা পিছিয়ে যায়। এরপর বুধবার হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি আদালতকে নিজের বয়ান দেন কাকলি। বিচারক তাঁর কথা শোনেন এবং স্থির হয়, বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হবে।কিন্তু, এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে বৃহস্পতিবারও আদালতে শুনানি হয়নি। ফলে শেষমেশ শুক্রবার আদালত তার রায় ঘোষণা করে। দোষীদের মধ্য়ে কাকলিকে ৩ বছরের সাজা ও ৫,০০০ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকেই ১০ বছর করে কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়।কাকলির আইনজীবী জানান, তিনি তাঁর মক্কেলের জন্য জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।