গত বছর গার্ডেনরিচে নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার পরে ♛বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছিল কলকাতা পুরসভা। অবৈধ নির্মাণ দেখলেই পুরসভার তরফে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, তারপরে আর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে নোটিশের পরেও বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ নির্মাণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগ ওঠায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এক্ষেত্রে পুরসভার কর্মীদের গাফিলতি সামনে আসছে। বিষয়টি জানতে পেরেই এবার আরও কড়াকড়ি শুরু করল পুরসভা। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পদক্ষেপ না করার ক্ষেত্রে কোনও কর্মীর গাফিলতি থাকলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা।
আরও পড়ুন: তারাপীঠ শ্মশানে 'পবিত্রতা' 🔯নষ্ট করে নির্মাণ, কাজ বন্ধের আর💝্জিতে মামলা হাইকোর্টে
কলকাতা পুরসভার কমিশনার এ বিষয়ে একটি নির্দেশ জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, বেআইনি নির্মাণ নিযꦬ়ে কোনও অভিযোগ ওঠার পরেও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় অথবা নির্মাণ যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গার্ডেনরিচে দুর্ঘটনার পর লগবুক ব্যবস্থা চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। সেক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা নিজেদের ওয়ার্ডে ১৫ দিন অন্তর অন্তর একই জায়গা পরিদর্শন করবেন। সেক্ষেত্রে কোনও বেআইনি নির্মাণ দেখলে বা অভিযোগ করলে লগ বুকে নথিভুক্ত করবেন, এবং পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু, সেই নির্দেশ জারি করলেও যে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, টক টু মেয়রে সেই অভিযোগ উঠে আসছে।
সূত্রের খবর, বহু অবৈধ নির্মাণ ল বুকে নথিভুক✱্ত করা হয়নি বা সেগুলি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরসভা নোটিশ দিয়ে কাজ চালিয়ে দিয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে বেআইনি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেয়র। তিনি পুর কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারপরেই পুর কমিশনার এই নির্দেশিকা জারি করেছেন।
নির্দেশে বলা হয়েছে, টক টু মেয়রে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কোনও অভিযোগ আসলে𝕴 সেটা লগবুকে নথিভুক্ত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সেই কাজ করবেন বিল্ডিং বিভাগের ডিজি। আর যদি নথিভুক্ত না থাকে তা নথিভুক্ত করতে। সংশ্লিষ্ট বেআইনি নির্মাণ নিয়ে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, টক টু মেয়রে আসা বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে ডিজি- মেয়র ও পুর কমিশনারকে নিয়মিত রিপোর্ট দেবেন। পরবর্তী টক টু মেয়রে এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।