একদিকে অকাল বৃষ্টি অপরদিকে ডিভিসি’র জল ছাড়ার জের। এই জোড়া জল হামলায় কপালে ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের। কারণ বিস্তীর্ণ চাষের জমিতে জল꧑ জমে গিয়েছে। এই কারণে আলু এবং ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরো মরশুমে এমন ক্ষতি হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়েছেন আলুচাষিরা। এই আবহে আলুচাষিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এই ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকদের মনে আশার আলো জ্বলে উঠেছে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কয়েকটি জেলায় সম্প্রতি অকালবর্ষণ হয়। তার জেরে চাষবাসের জমি জলের তলায় চলে যায়। কিন্তু ফসল পচে যায় ডিভিসি’র জল এসে জমা হওয়ায়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন কৃষকরা। সেই তথ্য পৌঁছে যায় নবান্নে। আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব♒িষয়ে বলেন, ‘আলুচাষিদের সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্ট্যাল প্রতি ৯০০ টাকা করা হয়েছে। কারণ বাংলার কৃষকরা ডিভিসি’র ছাড়া জলের জন্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর রাজ্যকে না জানিয়ে এবারও জল🦩 ছেড়েছে ডিভিসি। তার সঙ্গে অকাল বৃষ্টি যুক্ত হওয়ায় ব্য়াপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের।’
বাঁকুড়া, বর্ধমান এবং হুগলির কিছু এলাকায় জল ঢুকে পড়ে বলে খবর। আর তার জেরে অন্যান্য জেলার সঙ্গে হাওড়াতেও চাষ💧ের জমি জলের তলায় চলে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে কৃষকদের সূত্রে খবর। বিশেষ করে আলুর ব্যাপক🦂 ক্ষতি হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিভিসিকে একহাত নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘আবার রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছেড়েছে ডিভিসি। তার সঙ্গে গত কয়েকদিনে অকাল বৃষ্টি কয়েকটি জেলায় হয়েছে। তার জেরেই বিস্তীর্ণ এলাকায় নষ্ট হয়েছে ফসল। রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে আছে। সবরকম সাহায্য করা হবে। চিন্তার কিছু নেই।’
কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত বাংলার ওইসব জেলার কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে হাপিত্যেশ করছিলেন। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আলু রাজ্য কিনে নেবে বলে মুখ্যমন্🍬ত্রী জানাতেই পরিস্থিতি পাল্টে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ঘোষণা করলেন, ‘রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য ৩২১ কোটি টাকার বিমা ফান্ড তৈরি করেছে। আলুচাষিদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রতি কুইন্ট্যালে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। এতে কৃষকরা খানিকটা হলেও সুবিধা পাবেন।’ ডিভিসি’র ছাড়া জলে বিঘার পর বিঘা জমি ডুবে গিয়েছিল। স্বর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিল কৃষকরা। জমে থাকা জলে নেমেই জমি থেকে আলু তুলে ফেলার চেষ্টা করেন কৃষকরা। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্বস্তিতে কৃষকরা।