আজকের বক্তা তিনি। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। লন্ডনে বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখতে চলেছেন তিনি। তাঁর দেশ ভারতবর্ষ এবং রাজ্য বাংলার আপামর জনগণ তা শোনার জন্য তাকিয়ে আছেন। ৮ থেকে ৮০ সকলের কাছেই তিনি ‘দিদি’। হ্যাঁ,✤ তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আমন্ত্রিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে। শিল্পী এবং লেখক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন নিজের আঁকা ছবি এবং নিজের লেখা বই। যা উপহার দেবেন অক্সফোর্ড বিশ্বব♍িদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। তবে গাড়িতে চড়ে যাচ্ছেন না। বরং বাসে করে লন্ডন থেকে অক্সফোর্ড যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ বৈভবের জীবনযাপন তিনি করেন না। তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি রওনা হয়ে গিয়েছেন। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই বাসের একেবারে সামনে জানালার ধারের আসনে বসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ওই বাসেই আছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও। আরও অনেকেই আছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণে আজ বক্ত♒ৃতা দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার জন্য় আলাদা করে কোনও প্রস্তুতি নেননি তিনি। রওনা হওয়ার আগে সে কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বক্তৃতার জন্য আলাদা করে পড়াশোনা করিনি। জীবনের পথচলা থেকেই তৈরি আমি।’
আরও পড়ুন: খাদিম কর্তা অপহরণ মামলায় ১২ বছর পর মুক্ত আখতার হোসেন, কলকাতা হাইকোর্ট দিল বেকসুর খালাস
কদিন আগেই এসেছেন লন্ডন সফরে। শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলার জন্য আহ্বান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মউ চুক্তি সাক্ষর করেছেন। বাংলার ছেলে মেয়েদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার জন্য বিদেশ থেকে কিছু নিয়ে আসতে চান তিনি। এবার বক্তব্য রাখতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আমি বক্তৃতা করতে পারি না। আমি রান্না, ছবি, গান ভালবাসি। মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারি। মানুষকে ভালবাসি। সবার কাছ থেকে যা শিখেছি ত🦂াই তুলে ধরব꧙।’
এছাড়া বাংলায় ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে সরিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য প্রচণ্ড লড়াই করেছেন তিনি। তারপর সংসদীয় রাজনীতিতে সাতবারের সাংসদ। দু’বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজ্য–রাজনীতিতে তিনবারের জয়ী বিধায়ক। বিজেপির মতো প্রচণ্ড শক্তিকে বাংলায় রুখে দিয়েছেন তিনি। এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইটের জবাব পাথরে দিয়ে চলেছেন। তাই তো লন্ডনের মাটিতে দাঁড়িয়ে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বলেছেন, ‘বাপু, সংবিধানটা রক্ষা কোরো।’ আর আজ যখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন তখন সাংবাদিকদের কাছে তাঁর কথা, ‘আজ বক্তৃতার জ♍ন্য আলাদা করে পড়াশোনা করিনি। জীবনের পথচলা থেকেই তৈরি আমি। আর কানে কানে আমায়🧸 কিছু বললেও সে তথ্য মুখস্থ হয়ে যায়। মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞাসা করুন। আমি পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ। কিন্তু সব খবর রাখি। সবসময় প্রস্তুত।’