মতলব আপ হামেশা ক্রিকেট খেলোগে? একটি বাণিজ্যিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত এই সংলাপ মহেন্ജদ্র সিং ধোনিকে নিয়ে ♓তৈরি হওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। কেননা, একদা থালাকে নিয়ে যাঁরা মাথায় তুলে নাচতেন, তাঁদের একাংশকে বিরূপ দেখাচ্ছে ধোনিকে নিয়ে।
মহেন্দ্র সিং ধোনি শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেন ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। তার পর থেকে শুধুই আইপিএল খেলেন তিনি। আর কোথাও কোনও টুর্নামেন্টে মাঠে নামেন না ধোনি। মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নেই। তবে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে সেরা ছন্দে টিকে থাকতে হলে যে ব্যাটিং স্কিলেও ধার দেওয়া প্রয়োজন, সেটা বোঝেন ধোনি 🥂নিজেও। তাই আইপিএল মরশুম শুরুর বেশ কিছুদিন আগেই তিনি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন।
তবে সময় যে সর্বদা একই রকম থাকে না, কালের এই নিয়মটাই বোধহয় উপেক্ষা করেছেন 🌄ধোনি। একসময় ধোনির মুখে ‘ডেফিনেটলি নট’ শুনে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ত♍েন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে ছবিটা বদলেছে এখন। এবার কার্যত বিরক্ত হয়ে নেটিজেনরা ধোনিকে বলতে শুরু করেছেন, এবার থামুন।
ফিটনেস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। হাঁটুর চোট ভোগাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। মাঠের পারফর্ম্যান্সে সরাসরি তার প্রভাবও পড়ছে। চোট এড়িয়ে খেলতে চাওয়ার মানসিকতা থেকেই ধোনি ফিনিশার থেকে কার্যত টেল এন্ডারে পরিণত হ🍸য়েছেন। চেন্নাইয়ের সার্বিক পারফর্ম্যান্সে তার প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমনটা নয় যে, ধোনি ব্যাট হাতে রান পাচ্ছেন না। তবে দলের জয়ে ভূমিকা রাখার প্রসঙ্গটাই কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না আপাতত। আইপিএল ২০২৫-এর প্রথম তিন ম্যাচের শেষেই তাই ধোন হটাও👍 স্লোগান শোনা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
পরিস্থিতি যে একরকমটা হতে পারে, সেটা আগে থেকেই জানতেন ধোনি। ২০২৩ আইপিএল ফাইনালে𝕴র শেষেই মাহি সেটা মেনে নিয়েছিলেন। তবে সম্ভবত ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথা ভেবেই যত বেশিদিন সম্ভব আইপিএল খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাহি। নাহলে ২০২৩ সালে চেন্নাই সুপার কিংস আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই সসম্মানে সরে যাওয়ার সুযোগ ছিল ধোনির সামনে।
ক্যাপ্টেন হিসেবে দলকে পঞ্চম আইপিএল ট্রফি দিয়ে বিদায় নিলে ধোনির মাহাত্ম্য আরও বাড়ত সন্দেহ নেই। তবে 🐠সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন মাহি। আপাতত চলতি আইপিএল মরশুমে নাটকীয় কিছু করে দেখাতে না পারলে ধোনির সুনামে যে কালি লাগতেই থাকবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হ🔜ল, ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা বর্তমানে বাঁচতে পছন্দ করেন। অতীতের গৌরবকে সম্মান ♌জানালেও ব্যর্থতা মেনে নিতে রাজি নন তাঁরা। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষোভ যদি গ্যালারির বিদ্রুপে পরিণত হয়, তার থেকে হতাশাজনক ছবি ভারতীয় ক্রিকেটে আর কিছুই হবে না।
২০২৩-এ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে কেন অবসর নেননি ধোনি?
২০২৩ সালের আইপিএল ফাইনালে গুজরাট টাইটানসকে হারিয়ে চেন্নাই চ্যাম্পি🗹য়ন হওয়ার পরে ধোনি বলেন, ‘যদি পরিস্থিতির কথা বিচার করা যায়, তাহলে এটাই আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সেরা সময়। এই মুহূর্তে আমার কাছে সব থেকে সহজ কাজ হল সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অবর ঘোষণা করা। তুলনায় কঠিন কাজ হল ৯ মাস কঠোর পরিশ্রম করে আরও একটা আইপিএল মরশুমে মাঠে নামা। তবে সিএএসকের অনুরাগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আরও একটি মরশুমে মাঠে নামা তাদের জন্য উপহার হিসেবেই বিবেচিত হবে। ওদের জন্য এই কাজটা আমাকে করতে হবে।’
ধোনির সেদিন🦹ের কথাগুলো🌄 শুধু চেন্নাই সমর্থকদেরই নয়, বরং সব ক্রিকেটপ্রেমীকেই যারপরনাই আপ্লুত করে। তবে ২০২৪ মরশুমে চেন্নাই প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পরেও ধোনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চেন্নাই সমর্থকদের সেই ভালোবাসাই যে এখন হতাশায় পরিণত হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুতরাং, এটা বলা মোটেও ভুল হবে না যে, সমর্থকদের জন্যই ধোনি জেনেশুনে গরল পান করেন দু'বছর আগে।