আক্রমণের পরে বেশ কয়েক মাস কেটে গিয়েছে। কেমন আছে রুশদি? সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অনুরাগীরা নিরন্তর খোঁজ নেন সে বিষয়ে। হালে লেখক নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানালেন সে কথা। সম্প্রতি আমেরিকার নিউ ইয়র্কার নামের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুশদি জানিয়েছেন, কীভাবে এই আক্রমণ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগে তাঁর উপর আক্রমণ চালানো হয়। মঞ্চে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আততায়ী। টানা ১৫ বার ছুড়িকাঘাত করা হয় তাঁকে। আর সেই আঘাতেই তাঁর ডান চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বহু দিন অন্তরালে থাকার পরে আবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ফিরে এসেছেন রুশদি। সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যা হয়েছে, তার হিসাবে যদি দেখি, তাহলে আমি ভালোই আছি।’ তাঁর কথায়, ‘বড় সড় ঘাগুলো শুকিয়ে গিয়েছে। হাত অসাড় হয়ে গিয়েছিল। আস্তে আস্তে ফিরে আসছে অনুভূতি। এখন বুড়ো আঙুল আর হাতের তালু কাজ করছে। হ্যান্ড থেরাপি চলছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেছেন, আমি বেশ তাড়াতাড়িই ঠিক হচ্ছি।’ রুশদি এখন ৭৫ বছর পূর্ণ করেছেন। ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার পরে ইরানের সুপ্রিম নেতা তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন। সেই থেকেই দীর্ঘ দিন লুকিয়ে কাটিয়েছেন রুশদি। তাঁকে বহু বার মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই থেকেছেন তিনি। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে এসে তিনি আক্রমণের মুখে পড়ে যান। মঞ্চে কালো পোশাক পরে ওঠা এক আততায়ী ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে। প্রাণসংশয়ও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছেন বিখ্যাত সাহিত্যিক।হালে তাঁর একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। ডানচোখটি কালো কাচে ঢাকা চশমা পরে ছবিটি তুলেছেন তিনি। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরে প্রথমে ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। যদিও পরে তিনি আবার সেই ছবিটি পোস্ট করেছেন। এবং লিখেছেন, ‘আমাকে এখন এরকমই দেখতে।’তাঁর এই ছবি অনুরাগীদের মন জয় করেছে। লিখেছেন, এই ক’দিনে অনেকের ভালোবাসা পেয়েছেন। তার সঙ্গে বলেছেন, তাঁর জীবন খুবই সাধারণ, সেটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, তিনি কখনও ভাবেননি। ভেবেছিলেন, তাঁর সাহিত্যই বেশি করে আলোচনায় থাকবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে উলটোটিই হয়েছে বেশি।