সিমলা ঘুরতে যাওয়ার পথে ট্রেনে গান চালিয়ে বিপাকে পড়লেন ‘মা’ সিরিয়াল খ্যাত অভিনেত্রী তিথি বসু। ট্রেনে অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করা থেকে শুরু করে গালিগালাজ করা -সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে তিথির বিরুদ্ধে। ট্রেনে তিথির কামড়ায় থাকা এক সহযাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগ করে স্যোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে﷽ছেন। আর সেই পোস্ট চোখে পড়তেই তা নিয়ে মুখ খুললেন তিথি। ঘটনা কী ঘটেছে তা সবটা তিনি ভিডিয়োর মাধ্যমে তাঁর অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
ঘটনা কী ঘটেছে?
রবিবার একটি ভ্রমণ সংক্রান্🌜ত পেজে তিথি বসুর একটি ছবি পোস্ট করে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁরই এক সহযাত্রী ট্রেনে অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করা থেকে শুরু করে গালিগালাজ করা -সহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন।
আরও পড়ুন: দর্শকদের সামনে মঞ্চের উপরই ঠোঁটঠাসা চুমু নিক-প্রিয়াঙ্কার! ভিডꦉিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ভাইরাল
তিনি তিথির ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘এই মুহুর্তে আমি কালকা যাওয়ার জন্য নেতাজি এক্সপ্রেসে রয়েছি। আমাদের কামড়ায় সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা এবং একদল তরুণ-তরুণী। এই তরুণ তরুণীদের মধ্যে দুজন ব্লগারও রয়েছেন। কিন্তু এই ব্লগাররা জানে না যে, তাঁদের পাবলিকপ্লেসে উল্লাস করার অধিকার আছে কিনা। উঁচু আওয়াজে চিৎকার, গান আর হট্টগোল, হাসি সব মিলিয়ে এমনই করছেন তাঁরা যে আশপাশে থাকা অন্য যাত্রীদের কথা ভাবছেনই না। তাঁদের এই আচরণে সত্যি আমি স্তম্ভিত। বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁরা চিৎকা🐬র করেই যাচ্ছেন, জোরে জোরে গান চালাচ্ছেন। এই নিয়ে বলতে গেলে তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন। আমি জানি না এটা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এই মেয়েটিকে দেখছেন, এ সবচেয়ে বাজে ভাষা ব্যবহার করেছিল।’
এই পোস্ট প্রকাশ্য🍨ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই খুব স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে ভাইরাল। তিথিকে নানা কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। তবে এই সব শুনে চুপ করে থাকার মেয়ে নন তিথি। তাই মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে একটি ভিডিয়ো বানিয়ে তাঁর দিক থেকে ঘটনা কী ঘটেছে সেই নিয়ে মুখ খোলেন নায়িকা।
আরও পড়ুন: সামনে সুশান্তের মামলার রিপোর্ট, রিয়ার কাছে🅘 সকলকে ক্ষমা চাইতে বললেন দিয়া🌞 মির্জা!
ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি নেতাজি এক্সপ্রেসেই আছি। আমার ছবি নিয়ে একটা পোস্ট খুব ভাইরাল হয়েছে। পোস্টে ব্যবহার করা ছবিতে আমি আধো আধো মুখ করে আমি একজনের দিকে তাকিয়েছিলাম। সেই ছবিটা দিয়ে লেখা হয়েছে আমি নাকি যাত্রীদের বিরক্ত করে🐻ছি, গালিগালাজ করেছি। পোস্টটা খুব ভাইরালও হয়েছে। যদি আমার ছবি দিয়ে কেউ ভাইরাল হতে চান তবে হোন। কিন্তু আমি তো জানি লোকজন শিক্ষিত, কিন্তু আজ বুঝলাম যে মানুষজন দু'পক্ষের কথা না শুনেই নানা মন্তব্য করতে শুরু করে দেন। কোনও পরিচিত মুখ দেখেছে, তার মধ্যে ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির মেয়ে তকমা লেগে গিয়েছে মানেই সে খারাপ।’
এরপর তিথি ট্রেনে তাঁদের গান চালানোর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমারা দুপুর থেকে ট্রেনে গান চালাচ্ছিলাম। সকাল থেকে কেউ গান চালাইনি। কিন্তু গান চালানোর পর থেকে আমাদের গান আস্তে করতে বলা হয়েছিল। আমরা গানের আওয়াজও কমিয়ে দিয়েছিলাম। তবে যাঁরা আমাদের বলেছিলেন তাঁরা অ𓂃নেকক্ষণ আগেই ট্রেন থেকে নেমে গিয়েছেন। যাঁরা পোস্টটি করেছেন তাঁরা কেউ আমাদের এসে গান নিয়ে কোনও কথাই তখন বলেননি। যাইহোক, তারপর দুপুর ৩টে সাড়ে ৩টের পর থেকে গান বন্ধ হয়ে যা🍸য়।’
এরপর অভিনেত্রী বিকেলে কী ঘটেছে তা জানিয়ে বলেন, ‘তারপর বিকেলে আমাদের কামড়ায় যাঁরা ছিলেন তাঁরা আমাদের সঙ্গে হইহই করছিলেন। সিমলা ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে বলে সকলে একসঙ্গে মজা করছিলাম। কিন্তু তখনও এসে এক মহিলা বলেন, গান কেন চলছে? তখন আমারা বলি যে আমরা গান বন্ধ করব না, কিন্তু আস্তে করতে পারি। আর তখন তাঁদের সঙ্গে খুব ভদ্র ভাবেই কথা বলেছি। তারপর তিনি আরপিএফকে অভিযোগ জানান, আমাদের গান বন্ধ করিয়ে দেন। আমারা বন্ধও করে দিই। তারপর আমরা মজা ঠাট্টা করেছি। আমা🌳দের সঙ্গে একজন বয়স্ক মানুষ বসেছ💟িলেন, তিনি আমদের সঙ্গে মজা করছিলেন। অন্যান্য কামড়া থেকেও অনেকে আসছিলেন আমাদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন, মজা করছিলেন। কিন্তু যাঁরা পোস্টটা করেছেন তাঁরা কোনও পক্ষেই ছিলেন না। কিন্তু তাঁরা হঠাৎ করে পোস্ট করে দিয়েছেন।’
কিন্তু সত্যি কি গালিগালাজ করেছিলেন পর্দার 'ঝিলিক'? এই প্রসঙ্গে ܫনায়িকা বলেন, ‘এই যে বলা হচ্ছে, ‘তিথি বসু গালিগালাজ করেছেন’ আপনাদের একটা কথা খুব পরিষ্কার করে বলছি, এখানে আরও অনেকেই ছিলেন। হ্যাঁ আমি মানছি একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলায় আমিও জড়িয়ে পড়েছিলাম। আমিও একজন মানুষ। আমি কেবল পরিচিত মুখ বলে কোথাও অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করব না, তা তো হতে পারে না। যাঁরা পোস্টটা করেছেন তাঁরাই বরং আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ভাবে অপমান করে কথা বলেছিলেন। আমরা ভালো করে কথা বললে তা তাঁরা পাত্তাই দেননি। তারপর আমরাও ওঁদের মতো করে কথা বলেছি। আমিও করেছি। কারণ আমার একটা কথা মনে হয়, সম্মান সেই পাওয়ার যোগ্য যে সম্মান করে। আমি আমার সব কথা বললাম। এবার আপনাদের যা মনে হয় আপনারা ভাবতে পারেন।’
কে কী বলছেন?
তবে নায়িকার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতে বেশির ভাগ নেটিজেন তাঁর বিপক্ষেই কথা বলেছেন। একজন বলেন, 'আপনি কখনওই ট্রেনে গান বাজাতে পারেন না। অন্যদের জোর করতে পারেন না গান শুনতে। কেউ শান্তিপূর্ণ ভাবেও যেতে চাইতে পারেন। অনেকেই শব্দ সহ্য করতে পারে না। তাছাড়া, কিছু নিয়ম আছে। আপনার বক্তব্য বোকা বোকা। নিয়মগুলো আগে জেনে নিন, সে আপনি যেই হন ন🔴া কেন।' আর একজন লেখেন, ‘আমরা উত্তরবঙ্গের প্রায় নিত্যযাত্রী। কর্ম সূত্রে প্রায়ই যাওয়া-আসা করতে হয়। ওখানে গিয়ে অফিসের কাজ থাকে। সেজন্য রাতের ঘুমটা খুবই জরুরি। কিন্তু এইরকম লোকজনের জন্য সারাটা দিন খারাপ যায়। এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম আনা দরকার।’
আর একজন অভিনেত্রীকে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘আপনি কে? নিজেকে পরিচিত মুখ বলছেন?’ আর একজন ব♊েশ বিরক্ত হয়ে লিখেছেন, ‘আপনি অন্তত ছবি তোলার মত তারকা নন, কিছু ম💛নে করবেন না বার বার নিজেকে চেনা মুখ বলছেন তাই বললাম। হেডফোন ব্যবহার করতে পারতেন, ওটা পাবলিক প্লেসে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কিছু নিয়মাবলী আছে।’