আপনি নবজাতক মা হয়েছেন এবং প্রায়ই ছোটোখাটো বিষয় ভুলে যাচ্🍃ছেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে চিন্তা করবেন না। এই ভোলানোর সমস্যায় শুধুমাত্র আপনি নন, আপনার মতো লক্ষ লক্ষ মহিলা ভোগেন। এর জন্য আপনি নন, আপনার গর্ভাবস্থা দায়ী, যাকে প্রেগন্যান্সি ব্রেইন বা মমনেসিয়া বা বেবꩵি ব্রেইনও বলা হয়। প্রসবের পর প্রায়ই নবজাতক মা বেবি ব্লুজের মধ্য দিয়ে যান, যেখানে তিনি নেতিবাচক চিন্তা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন। যার ফলে তিনি নিজের সন্তানের সাথে যুক্ত হতে পারেন না। গবেষণা বলছে, এই সময় মহিলারা স্মৃতিশক্তি সম্পর্কিত সমস্যা, দুর্বল মনোযোগ, পড়তে অসুবিধা, নেতিবাচকতা, শব্দ ও নাম মনে রাখতে অসুবিধা ইত্যাদি অনুভব করেন। অধ্যয়নে দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক থেকেই মহিলাদের মধ্যে এ ধরণের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
কিছু গবেষণা বলছে, 𝓀৮১% গর্ভবতী মহি⛎লার স্মৃতিশক্তি ও ফোকাসের অভাবের সমস্যা হয়।
এখনꦺ আপনি ভাবছেন, এটা কেন হয়? এই বিষয়ে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্মিতা শ্রীবাস্তব বলেন, এই সময় হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, চাপ ও উদ্বেগ ইত্যাদি এর কারণ। কিছু অধ্যয়ন এমনকি বলে যে, গর্ভাবস্থার সময় মহিলাদের মস্তিষ্কের গঠনে পরিবর্তন অনুভব করেন। এই পরিবর্তন সন্তানের জন্মের ছয় বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। পড়ে ভয় পাচ্ছেন? এখানে ভয় পাওয়ার নয়, বুঝতে এবং সমাধান বের করার প্রয়োজন। টাইম টেবিল, রিমাইন্ডার, ভালো ঘুম, ব্যায়াম ইত্যাদি ছোটো ছোটো পদক্ষেপের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন। সাথে প্রয়োজন একটি ভালো ও সহায়ক পরিবেশের।
ডাঃ স্মিতা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নবজাতক মায়ের সম্পর্কে মতামত তৈরি করার পরিবর্তে তাদের পরিবর্তিত আচ💮রণ বা বলতে গেলে বিভ্রান্ত মন ও মস্তিষ্ককে বুঝতে হবে। এর উপেক্ষা কোনো বড় সমস্যার সূচনা হতে পারে। যদি সময়ের সাথে সাথে বিষণ্ণতা, ভয়, चिড়চিড়ে (chirachire) (irritability), নেতিবাচক চিন্তা বজায় থাকে, তাহলে অবশ্যই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। উপাত্ত বলছে, প্রায় ৫% মহিলার প্রসবের পর তিন বছর পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা অর্থাৎ পিপিডি-র সমস্যা দেখা গেছে। এমন ক্ষেত্রে মহিলাকে সহযোগিতা, বিশ্রাম ও চিকিৎসা পরামর্শে🤪র প্রয়োজন। এমন না হলে অস্থায়ী সমস্যা স্থায়ী হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই সময় থাকতে সমস্যা বুঝে এবং সঠিক চিকিৎসা পরামর্শ নিন। সঠিক দিকে পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে সন্তান ও মা দুজনেরই সমস্যা বাড়তে পারে।
ধীরে ধীরে শুরু হয় সমস্যা
বেবি ব্লুজ অর্থাৎ সন্তানের জন্মের পর বিষণ্ণতার অনুভূতি, যা সন্তানের জন্মের দুই দিন পর থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত এর লক্ষণ প্রসবের এক থেকে দুই সপ্তাহ পর নিজে থেকেই চলে যায়। যদি এর পরও সমস্যা থাকে তাহলে তাকে প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা বলে, অর্থাৎ পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন সংক্ষেপে পিপিডি। এটি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা যা অনেক মহিলাকে সন্তানের জন্মের পর হয়। এটি বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও ক্লান্তির তীব্র অনুভূতি, যা সন্তানের জন্মের পর দীর্ঘদিন ধরে থাকে। এই অনুভূতি আপনার জন্য নিজের ও আপনার সন্তানের যত্ন নেওয়া কঠিন করে তুলতে পারে। সন্তানের জন্মের সাথে সাথেই এই সমস্যা হওয়া আবশ্যক নয়। পিপিডি সন্তানের জন্মের পর যেকোনো সম✱য় হতে পারে। এটি প্রায়শই সন্তানের জন্মের এক থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শুরু হয়। উপাত্ত অনুযায়ী এই সমস্যা আট জনের মধ্যে একজন মহিলাকে প্রভাবিত করে অর্থাৎ প্রায় ১২.৫% মহিলা এতে ভোগেন।
এই ধরণের সমস্যা হতে পারে
নবজাতকের আগমনে মায়ের আবেগেও পরিবর্তন আসে। সম্ভবত তিনি কিছু লক্ষণ দেখতে পেতে পারেন। ডাঃ স্মিতার মতে, এমন ক্ষেত্রে প্রতিদিন বেশিরভাগ সময় বিষণ্ণতা অনুভব করা, লজ্জা, অপরাধবোধ বা ব্যর্থতার অনুভূতি, উদ্বেগ বা ভয় অনুভব করাও সাধারণ। এই সময় মা সেসব কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন যা তাকে ভালো লাগত। সর্বদা ক্লান্তি অনুভব করা, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বা অনেক কম খাওয়া, ঘুমাতে অসুবিধা হওয়া বা বেশি ঘুম, মনোযোগ কেন্ܫদ্রীভূত করতে বা সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া, নিজের সন্তানের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে অসুবিধা হওয়া, সমস্যা বৃদ্ধি পেলে নিজেকে বা নিজের সন্তানকে আঘাত করার চিন্তাভাবনা আসা, আত্মহত্যার চিন্তাভাবনা আসা পর্যন্ত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এই হল চিকিৎসা
এটি একটি চিকিৎসাগত সমস্যা। যার জন্য পেশাদার সাহায্য নেওয়া সঠিক উপায়। যেখানে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, টক থেরাপি ইত্যাদি থেরাপির সাহায্য নেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের সাহায্যও নিতে পারেন। এই বিষয়ে 👍ডাঃ স্মিতা বলেন, ভালো সুস্থতা জন্য ভালো পরিবেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যার জন্য মহিলার পরিবার ও বন্ধুরা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন। যাদের কাছ থেকে আপনি মানসিক সহায়তা পেতে পারেন তাদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। পর্যাপ্ত, গভীর ও নিশ্চিন্ত ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পুষ্টি ও হালকা ব্যায়ামও অবশ্যই করুন। স্মিতার মতে, ‘এই সব কাজ করলে শরীরে ভালো হরমোনের নিঃসরণ হয় এবং আমরা সুখী থাকি। ফলস্বরূপ, সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।’
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি প্রাথমিক ভাবে অন্য ভাষায় প্রকাশিত। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে এটির বাংলা তরজমা করা হয়েছে। HT বাংলার তরফে চেষ্টা করা হয়েছে, বিষয়টির গুরুত্ব অনুযায়ী নির্ভুল ভাবে পরিবেশন করꦇার। এর পরেও ভাষান্তরের ত্রুটি থাকলে, তা ক্ষমার্হ এবং পাঠকের মার্জনা প্র🧸ার্থনীয়।