ফের একবার পাকিস্তানি সেনার রক্ত ঝরাল বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি। ১৬ মার্চ বালোচিস্তানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালায়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দাবি করছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা ৯০ জন পাকিস্তানি জওয়ানকে হত্যা করেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির মাজিদ ব্রিগেড এই হামলার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে। হামলার ভয়াবহ দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে সেই ভিডিয়োতে। (আরও পড়ুন: ꧑বাংলায় ৮৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল? দাবি রিপোর্টে)
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ের একটি বাস আইইডি বোঝাই গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আগুনের গোলায় পরিণত হয়। কোয়েটা থেকে তাফতান যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির বহরে এই হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। এরপরই সেনার বাসের ওপর আরপিজি হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ে সাতটি বাস ও দুটি অন্যান্য গাড়ি ছিল। আচমকাই একটি আইইডি বোঝাই গাড়ি এন-৪০ জাতীয় সড়কে বাসটিকে ধাক্কা মারে। যার পরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং জওয়ানদের প্রাণহানির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। (আরও পড়ুন: ♎চিনের থেকে নয়া হাঙর শ্রেণির সাবমেরিন পেল পাকিস্তান, ভারত কি চিন্তায় পড়বে?)
🍷এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুসারে, মাজিদ ব্রিগেড এবং ফতেহ স্কোয়াড বালোচিস্তানের নোশকিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কনভয়টিতে আটটি বাস ছিল, যার মধ্যে একটি বিস্ফোরণে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। বিদ্রোহীরা তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলেছে যে বিস্ফোরণের পরে, ফতেহ স্কোয়াড কনভয়টি ঘিরে ফেলে এবং 'পরিকল্পিতভাবে ভিতরে থাকা সমস্ত সামরিক কর্মীকে নির্মূল করে'। এই হামলার পর থেকে বালোচিস্তানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যদিও পাক সেনার দাবি, ওই হামলায় ৯০ নয়, ৩ সেনা ও ২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। শহিদ সেনারা হলেন নবাবশাহ জেলার হাবিলদার মঞ্জুর আলি, নাসির আবাদ জেলার হাবিলদার আলি বিলাওয়াল এবং বাদিন জেলার নায়েক আব্দুল রহিম।
🍸পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একে 'আত্মঘাতী হামলা' বলে অভিহিত করেছে। এছাড়া কনভয়ে থাকা আরেকটি বাসকেও লক্ষ্য করে রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) ছোড়া হয়। এদিকে সেনার মিডিয়া উইং দাবি করেছে, বালোচ বিদ্রোহীদের ধরতে অভিযান জারি রাখা হবে। এদিকে এই হামলার নেপথ্যা থাকা দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে বলেও দাবি করে পাক সেনা। ইতিমধ্যেই সেই এলাকা নাকি ঘিরে ফেলে বালোচ বিদ্রোহীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পাক সেনা।