কচ্ছতিভু দ্বীপ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির পথে হাঁটল তামিলনাড়ু সরকার। শ্রীলঙ্কা থেকে এই দ্বীপটি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়ে তামিলনাড়ু বিধানসভায় আজ একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সমস্ত দলের সর্বসম্মত সমর্থনে সেই প্রস্তাবনাটি পাশ হয়। এর আগে কচ্ছতিভু দ্বীপ নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই ৫০০ ভারতীয় মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করেছে শ্রীলঙ্কা। এই আবহে কচ্ছতিভু ফেরানোর ইস্যুতে বিরোধী এআইডিএমকে-কে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। তিনি প্রশ্ন করেন, 'গত ১০ বছর ধরে আপনারা ক্ষমতায় থেকেও কেন কিছু করেননি?' এদিকে প্রস্তাবনার পক্ষে ভোট দেওয়া এআইএডিএমকে প্রধান পালিনিস্বামী পালটা তোপ দাগেন, 'ডিএমকে ক্ষমতায় থাকাকালীনই ১৯৭৪ সালে কচ্ছতিভু শ্রীলঙ্কাকে দিয়েছিল কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার। ২০০৮ সালে জয়ললিতা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কচ্ছতিভু ফেরাতে।' (আরও পড়ুন: ন🌃িয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে সেনা চܫৌকিতে গুলি পাক জওয়ানদের, ভারতের পালটা জবাবে নিহত ২)
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি উগ্🦩রপন্থা নিয়ে বড় দাবি ভারত ভাগ করতে চাওয়া উপদেষ্টার- হার্ড﷽লাইনে যাব…
প্রসঙ্গত, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৪ সালে এই দ্বীপটি একটি চুক্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে দিয়েছিলেন। পরে বহুবার সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধিকে আগাম অবহিত করা হয়েছিল সেই চুক্তির বিষয়ে। পরে রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। ১৬৩ একরের কচ্ছতিভু দ্বীপ নিয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে সরব হয়েছিল বিজেপি। এদিকে ২০২৬ সালে তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোট। এহেন পরিস্থিতিতে ফের এই ইস্যুটি বড় হয়ে উঠতে পারে তামিলনাড়ুতে। (আরও পড়ুন: একের পর এক জঙ্গিকে জেল থেকে ছেড়💙ে ইউ🌃নুসের বাংলাদেশ বলল - 'জঙ্গি সমস্যা বাড়েনি')
আরও পড়ুন: ‘বিশ্বের সবচেয়ে 💮বেশি𝔍 ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে ভারতে,তাও দেশের মুসলিমরা গরিব কেন?’
ভারতের রামেশ্বরম এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে কচ্ছতিভু দ্বীপ অবস্থিত। যে দ্বীপ ব্যবহার করতেন ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মৎস্যজীবীরা। কিন্তু ১৯৭৪ সালে 'ইন্দো-শ্রীলঙ্কান সামুদ্রিক চুক্তির মাধ্যমে ১৬৩ একরের সেই দ্বীপটি শ্রীলঙ্কার হাতে তুলে দেয় ভারত। এই দ্বীপ নিয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের। এর জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়ছিল। এই আবহে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে শ্রীলঙ্কার হাতে কচ্ছতিভু দ্বীপ তুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারত সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ফলে তামিলনাড়ুর মৎস্যজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। আগে এই দ্বীপের আশেপাশের জল থেকে মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করতেন কয়েক হাজার মৎস্যজীবী। তবে দ্বীপ হস্তান্তরের পরে সেই দ্বীপের ধারেকাছেও ভারতীয়দের ঘেঁষতে দেয় না শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। এমনিতেও বহু ক্ষেত্রেই শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশ করার অভিযোগে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের গ্রেফতার করে লঙ্কার নৌসেনা। (আরও পড়ুন: ওয়াক💦ফ বিলের সমর্থনে পথে মুসলিম মহিলারা, উঠল 🦂'মোদী জিন্দাবাদ' স্লোগান)
আরও পড়ুন: 'গাধা সবসময় গাধাই থাকে', জিবলি আর্টে ট্রোল ইউনুস, মিমের ছড়াছড়ি সোཧশ্যাল মিডিয়ায়
রামেশ্বরম, পুদুকোট্টাই এবং নগপত্তিনমের মতো এলাকার মৎস্যজীবীরা কচ্ছতিভু দ্বীপে শ্রীলঙ্কার 'দাদাগিরি' নিয়ে তিতি বিরক্ত। এদিকে তামিলনাড়ু সরকারও এই দ্বীপের জন্য বারবার সরব হয়েছে। শ্রীলঙ্কার থেকে কচ্ছতিভু দ্বীপ ফেরানোর জন্য একাধিকবার কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছিলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। কেন্দ্রকে চিঠি লিখেছেন তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও। সরকারি নথি থেকে জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা লাভের পরই কচ্ছতিভু দ্বীপ নিয়ে নিজেদের দাবি জানাতে শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন সিলন বায়ুসেনা মহড়া চালিয়েছিল কচ্ছতিভু দ্বীপে। ১৯৬১ সালের ১০ মে কচ্ছতিভু দ্বীপের বিষয়টি তুচ্ছ বলে অভিহিত করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। তিনি বলেছিলেন, 'এই ছোট্ট দ্বীপের ক্ষেত্রে কোনওরকম গুরুত্ব দেখতে পাচ্ছি না আমি। সেই দ্বীপ নিয়ে ভারতের দাবি তুলে নিতে কোনও আপত্তি থাকবে না আমার।' (আরও পড়ুন: ভারতে ওয়ওাকফের অধীনে কতটুকু জমি আছে? সেই সব সম্পত্তি🏅র দাম কত?)
এদিকে ১৯৬০ সালে ভারতের তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এসম সি সেতালভাদ জানিয়েছিলেন যে কচ্ছতিভু দ্বীপের বিষয়টি নিয়ে দিনের আলোর মতো স্বচ্ছতা না থাকলেও ওই দ্বীপের উপর ভারতের বেশি অধিকার আছে। ভারতের হাতেই কচ্ছতিভু দ্বীপ রাখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তৎকালীন যুগ্মসচিব কে কৃষ্ণ রাও জানিয়েছিলেন, কচ্ছতিভু দ্বীপ নিয়ে শ্রীলঙ্কা যে দাবি করছে, সেটার মজবুত ভিত্তি আছে। কিন্তু সেটার মানে এই নয় যে ভারত✱ের কোনও দাবি নেই।