সিঙ্গাপুরে এক মহিলাকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় এক ভারতীয় যুবককে ৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে। ২৬ বছর বয়সি এরাক্কোদান আবিনরাজ গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ভোরে প্রতিবেশীর কন্ডোমিনিয়াম ইউনিটে প্রবেশ করে এক মহিলাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। গোপনীয়তার স্বার্থে ওই মহিলার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবিনরাজ ব্যালকনি দিয়ে প্রতিবেশী ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকে সোজা বেডরুমে চলে গিয়েছিলেন। তখন ওই মহিলা তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁদের সন্তান অন্য ঘরে ছিল। হঠাৎ ওই মহিলা বুঝতে পারেন, কেউ তাঁকে স্পর্শ করছে। ঘুম ভেঙে তিনি দেখতে পান, অভিযুক্ত মোবাইলের ফ𝔉্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহিলার স্বামী তখনও ঘুমাচ্ছিলেন। মহিলার চিৎকার শুনে তাঁর স্বামী জেগে উঠেছিলেন এবং আবিনরাজকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। আতঙ্কে আবিনরাজ তখনই প্রস্রাব করে ফেলেছিলেন এবং পুলিশ না ডাকতে অনুরোধ করেছিলেন।
এরপরই পুলিশে খবর দেন ওই মহিলা। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ভারতীয় যুবক ওই মহিলার বাড়িতে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করেন। তবে শ্লীলতাহানির অভ🌊িযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, মোবাইল ফোন ভুল করে ওই মহিলার উপরে পড়ে গিয়েছিল।এই ঘটনায় সরকারপক্ষ ভারতীয় যুবকের ছয় থেকে আট মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল। কারণ এটি ছিল সিঙ্গাপুরের নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা লঙ্ঘন। পাশাপাশি, তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় আরও বেশি অসহায় ছিলেন। অন্যদিকে, আবিনরাজের আইনজীবী আম্বালাভানার রবিদাস সাত মাসের শাস্তির অনুরোধ করেন আদালতে। তিনি যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেল ভারতের একটি সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন এবং তাঁর ঠাকুমা আত্মহত্যা করায় ত🐷খন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
তবে প্রসিকিউশনের মতে, ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই ভারতীয় যুবক মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন না।দু'পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর সিঙ্গাপুর আদালত ভারতীয় যুবককে ৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের আইনে শ্ল🍸ীলতাহানির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং বেত্রাঘাতের শাস্তি রয়েছে।