মহারাষ্ট্রে ঔরঙ্গজেব বিতর্ক এবং নাগপুরে সোমবারের হিংসার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস দাবি করলেন, ভিকি কৌশলের ছাবা সিনেমার কারণেই ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মানুষের মনে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাজিনগর থেকে ১৭ শতকের মুঘল সম্রাটের সমাধি সরানোর দাবি উঠেছে। উল্লেখ্য, আগে এই শহরের নাম ছিল ঔরঙ্গাবাদ। পরে একনাথ শিন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই জায়গার নাম বদল করেছিলেন। (আরও পড়ুন: 'ঔরঙ্গজেবকে সমর্থন করলে সহ্য করা হবে না...', 💎নাগপুর হিংসা নিয়ে সুর চড়ালেন এক💛নাথ)
আরও পড়ুন: পাকিস্তানি সেনার ঘুম ওড়াল BLA, বালোচিস্তান জুড়ে ১০ হামলা, খ♉তম একাধিক জওয়া⛦ন
এদিকে নাগপুরের হিংসা নিয়ে আজ বিধানসভায় ফড়ণবীস বলেন, 'এই হিংসাত্মক ঘটনা ও দাঙ্গা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করেছিল উন্মত্ত জনতা। পুরোটাই ষড়যন্ত্র বলে𓂃 মনে হচ্ছে। ছাভা সিনেমা ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সকলে মিলে মহারাষ্ট্রকে শান্ত রাখতে হবে। আমি পুলিশ কমিশনারকে বলেছি যে যতটা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা যেন নেওয়া হয়।' উল্লেখ্য, আপাতত নাগপুরে কার্ফু জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নের মাঝে ক🎃ুম্ভের 'ক্রেডিট' নিয়ে সংসদে মোদী বললেন…
নাগপুরে কী হয়েছিল?
জানা যায়, ঔরঙ্গজেবের কবর অপসারণের দাবিতে একট🏅ি ডানপন্থী সংগঠন বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল নাগপুরে। সেই সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানো হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মহারাষ্ট্রের নাগপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পরে হিংসা থামাতে গিয়ে ২৫ জন পুলিশকর্মী জখম হন। সঙ্গে জখম হন ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরাও। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্য নাগপুরের চিটনিস পার্ক ও মহল এলাকায় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেলে কোতোয়ালি ও গণেশপেঠে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চিটনিস পার্ক থেকে শুক্রবার তালাও রোড পর্যন্ত এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দাঙ্গাকারীরা কয়েকটি চার চাকার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর লক্ষ্য করেও পাথর ছোড়া হয় বলে♕ জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এরপর হাজার হাজার মানুষের ভ♐িড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে অনেক চেষ্টা করতে হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকেলে মহল এলাকায় ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের মূর্তির কা🌳ছে বজরং দলের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখালে ঝামেলা শুরু হয়। পুলিশ জানায়, আন্দোলন চলাকালে কোরান পোড়ানো হয়েছে বলে গুজব ছড়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, বজরং দলের বিক্ষোভের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ধ্যায় গণেশপেঠ থানায় পবিত্র বই পোড়ানোর অ💦ভিযোগ দায়ের 🌊করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মহল, কোতোয়ালি, গণেশপেঠ, চিটনিস পার্ক-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। গোলমাল আঁচ করতে পেরে পুলিশ টহল জোরদার করে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ডেকে আনে। এদিকে, চিটনিস পার্ক ও মহল এলাকায় পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়, এরপরই পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। অন্যান্য এলাকা থেকেও সহিংসতার খবর আসতে শুরু করে। বজরং দলের কর্মীরা অবশ্য কোরান পোড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তারা তাদের প্রতিবাদের অংশ হিসাবে কেবল ঔরঙ্গজেবের একটি কুশপুতুল পুড়িয়েছেন।