উত্তরপ্রদেশের মীরাটের মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের হত্যার ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, তত প্রকাশ্যে আসছে তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লার নানা কীর্তি। ধৃতদের জিজ্ঞা💖সাবাদ করে ত♏দন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ৪ মার্চ রাতে স্বামীকে হত্যার পর তাঁর দেহাংশ নিজের সঙ্গে রেখেই ঘুমিয়েছিলেন মুসকান। শুধু কাটা মুন্ডু এবং হাতগুলি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন প্রেমিকের বাড়িতে। সৌরভের মুন্ডু এবং কাটা হাত অন্তত ২৪ ঘণ্টা সাহিলের নিজের ঘরে ছিল। ধড় এবং বাকি দেহাংশ রাখা ছিল মুসকানের ঘরে। খাটের বাক্সে দেহাংশ ভরে তার উপরেই ঘুমিয়েছিলেন তিনি। পরে প্রেমিকের সাহায্যে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে স্বামীর দেহাংশগুলি তিনি ভরে ফেলেন। ড্রাম ভরাট করে দেন সিমেন্ট দিয়ে।
২৯ বছরের সৌরভ লন্ডনে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছিলেন স্ত্রী এবং ছ’বছরের কন্যার জন্মদিন পালন করতে। কিন্তু সেই সময়েই তাঁকে হত্যা করেন স্ত্রী মুসকান এবং সাহিল। তাঁদের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সৌরভের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন মুসকান। সেই খাবার খেয়ে সৌরভ অচৈতন্য 𝓀হয়ে পড়েন। অচৈতন্য হতেই সৌরভের বুকে একের পর এক ছুরির কোপ বসিয়ে দিয়েছিলেন মুসকান।কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন সাহিল। বাজার থেকে কিনে আনা মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সৌরভের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দেন সাহিল। ১৫টি টুকরোয় সৌরভের দেহ ভাগ করা হয়েছিল। রাতেই সৌরভের দেহ টুকরো করেন দু’জনে মিলে। তারপর নীল ড্রামের মধ্যে সিমেন্ট ঢালেন। আবার সিমেন্ট গুলে ড্রামের মুখ আটকে দেন, যাতে দেহাংশের কোনও 𝔉চিহ্নই কেউ খুঁজে না পান। সেই ড্রামটিকে ফেলে আসার পরিকল্পনা ছিল দু’জনের। সন্দেহ যাতে না হয়, তাই দু’জনে মিলে আগে শিমলা ঘুরতে চলে যান। সেখান থেকে সোমবার বাড়িতে ফিরে ওই ড্রাম ফেলে আসার পরিকল্পনা ছিল মুসকান এবং সাহিলের। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান তাঁরা।
জেরার মুখে স𝔉্বামীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন মুসকান। কীভাবে কী কী করেছিলেন, বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনিই জানিয়েছেন, তাঁর ঘরে বাক্স খাট ছিল। সেই বাক্সেই সৌরভের দেহ রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু মুন্ডু এবং হাত শেষ মুহূর্তে প্রেমিকের বাড়িতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। গোটা ঘটনার সময়ে তাঁর কন্যা পাশের ঘরেই ঘুমোচ্ছিল। শিমলা যাওয়ার আগে কন্যাকে নিজের বাবারবাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন মুসকান।
অন্যদিকে, মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত খুনে অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী মুসকান এবং প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার থেকে দুই অভিযুক্তের নতুন ঠিকানা মেরঠের চৌধুরি চরণ সিং জেলা কা🔴রাগার। সেই জেলেরই ১২ নম্বর ব্যারাকে রাখা হয়েছে মুসকানকে। আর ১৮ নম্বর ব্যারা𓂃কে ঠাঁই হয়েছে তাঁর প্রেমিক এবং সৌরভ খুনে অন্যতম অভিযুক্ত সাহিলের।
বুধবার মুসকান এবং🌸 তাঁর প্রেমিককে আদালত থেকে বার করে আনা হচ্ছিল। সেই সময় আদালত চত্বরে তাঁদের কড়া শাস্তি চেয়ে দাবি তোলেন আইনজীবীরা। তারপর পুলিশের হাত থেকে প্রায় ছিনিয়ে দুই অভিযুক্তকে মারধরেরꦚ অভিযোগ ওঠে এক দল আইনজীবীর বিরুদ্ধে।