বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল আগেও ছিল। এখন আছে এবং তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। একুশের নির্বাচনের পর থেকে বিজেপিতে যাঁদের মোহভঙ্গ হয়েছে তাঁরা গেরুয়া সংস্রব ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরও পদ্মশিবির ত্যাগ করে ঘাসফুলে জুড়ে গিয়েছেন অনেকেই। সেটা পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে সাংসদ–বিধায়ক স্তর পর্যন্ত। এবার ফেসবুকে পোস্ট করে দলের সব পদ ছাড়লেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওঁরাও। কয়েকদিন আগে হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বিজেপি ছ📖েড়ে বিপুল কর্মী–সমর্থক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক কি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন? দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক।
এই বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিজেপিতেই থাকছেন মনোজকুমার ওঁরাও। তবে দলের কোনও পদে থাকছেন না। এভাবে দলের অন্দরের বিদ্রোহকে চরমে পৌঁছে দিলেন এই বিজেপি বিধায়ক। যা নিয়ে এখন রাজ্য–রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে।꧑ উত্তরবঙ্গের উন্নতি নিয়ে যখন উত্তরবঙ্গের বিধায়করা নয়াদিল্লি পাড়ি দিয়েছেন তখন দলের একাংশের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। আবার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে সে কথা পোস্ট করেছেন বিজেপি বিধা🐼য়ক। জেলা সভাপতি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ফেসবুকে পোস্ট বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। যার জেরে গুঞ্জন আরও বেড়েছে।
বিজেপিতে এখন তিনটি গোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠী আছে শুভেন্দু অধিকারীর। আর একটি গোষ্ঠী আছে দিলীপ ঘোষের এবং তৃতীয় গোষ্ঠীটি হচ্ছে সুকান্ত মজুমদারের। ফেসবুকে কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক ব্যাট ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষের পক্ষে। সুতরাং তিনি যে সুকান্ত মজুমদার গোষ্ঠীর বিরোধী তা বুঝতে আর কোনও অসুবিধা রইল না। ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন আছে বাংলায়। তার আগে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় সেটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে👍 করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এখন চারজন বিজেপি বিধায়ক শীঘ্রই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন। তবে তাঁরা কারা সেটা তৃণমূল কংগ্রেস খোলসা করেননি। এই আবহে কুমারগ্রামের ব🐎িজেপি বিধায়কের বিদ্রোহ নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ন্যাশনাল ই–গভর্নেন্স অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত বাংলার সাত পঞ্চায়েত, কেন্দ্রের পুরষ্কারে কারা?
এই বিদ্রোহ করার পাশাপাশি সমস্ত বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওঁরাও। কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজকুমার ওঁরাও ফেসবুকে লেখেন, ‘শুভেন্দু অধিকারꦕী ও দিলীপ ঘোষ বাংলায় পরিবর্তন আনতে জান প্রাণ লাগিয়ে দিচ্ছে। কয়েকজন নেতৃত্ব ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠে পরে লেগেছে। কিন্তু কয়েকজন সাধারণ কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে ও তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে চাটুকারিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচনে দলের রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে। এই পরিবেশে দলের কোনও দায়িত্বে থাকতে পারছি না। তাই সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে থ𒆙াকব।’