ꦦ প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই দাবি সিবিআইয়ের। আর যেদিন ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট সেদিনই পার্থর জন্য আবার জামিনের আবেদন করলেন তাঁর আইনজীবী। এবার পার্থর আইনজীবীর যুক্তি, ওএমআর শিট সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাই তাঁকে এবার জামিন দেওয়া হোক। যে কোন শর্তে জামিনের আর্জি জানিয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী।
🍌এদিকে আজ ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের এসএসসি’র প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য তার পৃথকীকরণ সম্ভব নয় বলেই জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তার জেরেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চাকরিহারারা। এই রায় বের হওয়ার পরই আজ বিশেষ সিবিআই আদালতে জামিনের আবেদন করে বসেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আইনজীবীর সওয়াল, ‘আমার মক্কেল নির্দোষ। যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক তাঁকে।’ যদিও আগে এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ‘দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড’ বলেছিল সিবিআই।
আরও পড়ুন: ‘আমি বিশ্বাস করি এটা বিজেপি–সিপিএম করিয়েছে’, চাকরি বাতিল নিয়ে দোষারোপ মমতার
অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর তৎকালীন অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি আদালতে দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে বলেছিলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে তখন ওএমআর শিটের নথি নষ্ট করা হয়েছিল। আজ বিশেষ সিবিআই আদালতে পার্থর আইনজীবীর পাল্টা দাবি, এই বিষয়ে তাঁর মক্কেল কিছুই জানতেন না। আর ওএমআর শিটের বিষয়ে সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছিল তাতেও তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। তাই তাঁর দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই যে চার্জশিট দিয়েছে সেখানেও কোনও অভিযোগের উল্লেখ নেই। 🌠আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী আদালতে বলেন, ‘আমার মক্কেল ওএমআর শিট নষ্ট করেননি। ওএমআর শিট নষ্টের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই।’
এছাড়া আগে একাধিকবার জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছেন। কিন্তু জামিন মেলেনি। এবার ওএমআর শিটকে হাতিয়ার করে পার্থর জামিনের পক্ষে সওয়াল করেছেন আইনজীবী। নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যেই অনেকে জামিন পেয়েছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কেন এতদিনেও জামিন দেওয়া হচ্ছে না? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামীর সওয়াল,꧅ ‘আমার মক্কেল আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। এই মামলায় পরে গ্রেফতার হয়েও অনেকে জামিন পেয়েছেন। সিবিআই আমার মক্কেলকে জেলে গিয়ে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। যে কোনও শর্তে তাই জামিন দেওয়া হোক।’ তখন বিচারক শুভেন্দু সাহা প্রশ্ন করেন সিবিআইয়ের আইনজীবীকে, ‘আপনাদের নতুন করে কিছু বলার আছে?’ জবাবে সিবিআই আইনজীবীর বক্তব্য, ‘না আমাদের কিছু বলার নেই।’