অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভাষণ দিচ্ছেন, সেই সময়েই দর্শকাসনের একংশ থেকে ভেসে এসেছিল একগুচ্ছ প্রশ্নবাণ! ঠান্ডা মাথায় সেসব সামাল দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল শিবির সেই ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই বামপন্থীদের কাঠগড়ায় তুলেছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশের মাটিতে অপদস্ত করতে গিয়ে আদতে ওই প্রশ্নকর্তারা বাংলার ভাবমূর্তিই নষ্ট করেছেন! আর, এবার পালটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই সরাসরি 'রাজ্য সম্পর্কে ভুল ꧒তথ্য' দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বাংলার প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী। হাতিয়ার করলেন মমতারই বক্তব্যকে।
এবারের প্রায় এক সপ্তাহে🌺র লন্ডন সফরে মমতা কেবলমাত্র কেলগ কলেজেই বক্তৃতা করেননি। তাঁর নানাবিধ কর্মসূচি ছিল। লন্ডনের মাটিতে দাঁড়িয়েই সেখানকার একটি বাণিজ্য তথা শিল্প সম্মেলনেও ভাষণ দেন মমতা। যার প্রধান লক্ষ্য ছিল, লন্ডন থেকে সরাসরি বাংলায় বিনিয়োগ টানা।
সেই মঞ্চ থেকে ভারতে ব্রিটিশরাজের প্রসঙ্গ তুলে বেশ কিছু মন্তব্য করতে শোনা যায় মমতাকে। তিনি বলেন, ‘আমি ইউকে-কে ভালোবাসি। কারণ, আমাদের মধ্যে ইমোশনাল রিলেশন আছে। ঐতিহাসিক রিলেশন আছে। ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে (সম্পর্ক আছে)। আপনারা ভারতে ১৯০ বছর ধরে শাসন করেছেন। 🐠স্বাধীতার আগে আপনাদের শাসনের সময় কলকাতা ভারতের রাজধানী ছিল। তাই, আপনারা অনেক ইমারত নির্মাণ করেছিলেন। অনেক হেরিটেজ বিল্ডিং আছে। অনেক কিছুই আছে। আমরা রোজ সেসব মনে করি। আসুন, বাংলায় বিনিয়োগ করুন। বাংলা মানেই বাণিজ্য। আর, আপনাদের কাছে বাংলার অর্থ আপনাদের ঐতিহ্য। তাই, বাংলা ও ভারত সবসময় আপানদের মনে করে। আমাদের লোকজন, ভারতীয়রা ইউকে-কে খুব ভালোবাসে।’
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, মূলত ব্রিটিশ এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী বণিক সমাজ ও শিল্পপতিরা য♐াতে আজকের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করেন, সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট মঞ্চ থেকে ভারত ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাস টেনে আনেন মমতা। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই বিষয়টিকে 'মমতার ব্রিটিশ তোষণ' হিসাবে তুলে ধরে। এই প্রসঙ্গে সুজন যে ফেসবুক পোস্টটি করেছেন, তাতেও অভিযোগ ও সমালোচনার সেই একই সুর ধরা পড়েছে।
সুজন লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্ꦚরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নিজেকে বড় প্রমাণ করতে গিয়ে রাজ্যকে ছোট করছেন।... উনি বলছেন, ব্রিটিশদের প্রতি আমাদের আবেগ এবং ঐতিহ্য আছে। ব্রিটিশদের শাসনে ১৯০ বছরের পর🅷াধীনতা এবং তাদের লুটে আবেগতাড়িত হয় কেবল আরএসএস এবং তার অনুগামীরা।’
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত হল, সুজন তাঁর এই পোস্টে ফের একবার মমতার সঙ্গে আরএসএস ও তার অনুগামীদের এক আসনে বসিয়েছেন। যেটা নতুন কিছু নয়। যেহেতু মমতা অতীতে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন, সেই কারণেই আজও তাঁকে এ নিয়ে সমালোচ🌼না করে বামেরা।
এদিকে, কেলগ কলেজে মমতার ভাষণ ও তাকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা নিয়ে ইতিমধ্যেই𝐆 তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একের পর এক তোপ দাগা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুজনের মন্তব্য তথা ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজ্যের শাসক শিবির কোনও জবাব দেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।