✨ 'আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল', প্রচলিত এই প্রবাদটি কমবেশি প্রায় সকলেই শুনে থাকবেন। প্রথা অনুযায়ী, দোলপূর্ণিমার ঠিক আগেরদিনই ন্যাড়াপোড়া-র রীতি পালিত হয়। আবার কোনও কোনও জায়গায় হোলিকা দহনও হয়। কোথাও কোথাও একে চাঁচর পোড়াও বলা হয়ে থাকে। আর এই রীতি মেনেই , ১৩ মার্চ রাতে ন্যাড়াপোড়া-র এক আয়োজনে সামিল হয়েছিলেন অভিনেত্রী, বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
🥀নিজের বিধানসভা এলাকা বরাহনগরের একটি এলাকার খোলা মাঠে ন্যাড়াপোড়া-র আয়োজনে সামিল হয়েছিলেন সায়ন্তিকা। তালপাতা জ্বালিয়ে তাঁকে এই রীতি পালনে দেখা যায়। নিজের ইনস্টাগ্রামের পাতায় নিজেই সেই ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন তিনি। যেখানে তালপাতা দিয়ে ছাউনি বানিয়ে সেগুলিতে আগুন ধরাতে দেখা যায়। আর সেই কাজটিই নিজের হাতে করেন অভিনেত্রী-বিধায়িকা। আগুন জ্বালানোর সময় মজা করে তাঁকে বলতে শোন যায়, ‘আমার ন্যাড়া ধরে গেছে গো… ।’
༒আবার সেই অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে ডাব ছুঁড়ে দিতেও দেখা যায় তাঁকে। এদিন সবুজ ব্লাউজের সঙ্গে একটি হলুদ শিফন শাড়ি পরে এসেছিলেন সায়ন্তিকা। আগুন জ্বালানোর সময় উপস্থিত অনেকেই তাই তাঁকে আঁচল সামলে রাখার জন্য সচেতন করে দেন। এদিন বহু স্থানীয় মানুষ সেই রীতি পালনে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথা শেষে সকলকে দোলের শুভেচ্ছাও জানান সায়ন্তিকা।
ন্যাড়াপোড়া কী?
🌱ন্যাড়াপোড়া যাকে কিনা বাংলার বাইরে যা হোলিকা দহন বলা হয়। এই রীতির পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক আখ্যান। প্রাচীনকালে রাক্ষস রাজা ছিলেন হিরণ্যকশ্যপ। যিনি কিনা নিজেকে ভগবানের সমান মনে করতেন। তিনি অত্যন্ত দাম্ভিক ও অহংকারীও ছিলেন। তাঁর তপস্যায় খুশি হয়ে ব্রহ্মা হিরণ্যকশ্যপকে বর দিয়েছিলেন, না কোনও মানুষ না কোনও প্রাণী কেউ তাঁকে বধ করতে পারবে না। না তার মৃত্যু ঘরের ভিতরে হবে না ঘরের বাইরে হবে, তার মৃত্যু না দিনে হবে না রাত্রে হবে, কোনও অস্ত্রের দ্বারাই তাঁর মৃত্যু ঘটানো সম্ভব নয়। এমনকি জল স্থল ভূমি আকাশ কোনও জায়গাতেই তার মৃত্যু হবে না।
🧜এই বর পাওয়ার পর হিরণ্যকশিপু আরও অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর পুত্র ছিলেন প্রহ্লাদ যিনি ছিলেন বিষ্ণু ভক্ত। এদিকে ছেলে হয়ে প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর পুজো করবে এটা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না হিরণ্যকশ্যপ। তিনি নানাভাবে প্রহ্লাদকে মারার চেষ্টা করেন, তবে প্রতিবারই শ্রী হরি বিষ্ণুর দয়াতে প্রহ্লাদ রক্ষা পেয়ে যেতেন। সেই কারণে তিনি প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারতে নিজের বোন হোলিকার সাহায্য নিয়ে ষড়যন্ত্র চান।
𒊎হোলিকার কাছে ছিল একটি বরপ্রাপ্ত শাল। যে শাল গায়ে দেওয়া থাকলে আগুনও তাকে স্পর্শ করতে পারত না। ষড়যন্ত্র করে হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনের মধ্যে বসে, সে ভেবেছিল শাল গায়ে থাকায় তার কিছু হবে না, আগুনে প্রহ্লাদ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তবে অদৃষ্টের পরিহাসে আগুনের মধ্যে প্রবেশ করা মাত্র হোলিকার শাল প্রহ্লাদের উপর উড়ে গিয়ে পড়ে। হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ভক্ত প্রহ্লাদ সুরক্ষিত থাকে। এরপর থেকেই শুরু হয় হোলিকা দহন প্রথা। অর্থাৎ আসল উদ্দেশ্য অশুভের বিনাস, শুভের সূচনা।