৯ দিনে সেনার তৃতীয় অভিযান। জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সোমবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়েছে।জঙ্গিদের খোঁজে একসঙ্গে ত্রিফলা অভিযানে নেমেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সেনা, এনএসজি, বিএসএফ এবং সিআরপিএফ। যার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন সাফাইয়া'। (আরও পড়ুন: খলিস্তানি পান্নুনের হাত থেকে ডোভালক🐓ে 'বাঁচায়' মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা!)
আরও পড়ুন-Australian woman: বাজ পড়𝔍ার পরেও প্রাণে বাঁচলেন তরুণী❀! বদলে গেল চোখের রং
সূত্রের খবর, সেনাবাহিনীর জওয়ানরা জইশ- ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের তিন সন্ত্রাসবাদীকে ঘিরে ফেলেছে। কাঠুয়ার বিল্লাওয়ার এলাকার পাঞ্জতিরথিতে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই মঙ্গলবার সকালেও চলছে। এক জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর দাবি। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সিআরপিএফ-এর আইজি জিকে রাও এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিআইজি শিবকুমার শর্মা। জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে পাঞ্জতিরথি এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি), ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়, যার জবাবে প্রতিরক্ষামূলক গুলি চালানো হয়। বর্তমানে তিন জঙ্গি পাঞ্জতিরথি এলাকার একটি ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি অঞ্চলে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাটি পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। (আরও পড়ুন: 'ওপারে প্রভু চিন্ম꧃য়,এপারে প্রভু হিরন্ময়', দাসপুরে সন্ন্যাসীর ওপর হামলার অভিযোগ)
দ্বিতীয় সংঘর্ষ
গত বৃহস্পতিবার কাঠুয়ার সফিয়ান জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। সেই সংঘর্ষে চার পুলিশকর্মী নিহত হন। মৃত্যু হয় অনুপ্রবেশকারী দুই জঙ্গিরও। বাকি জঙ্গিরা কাꦰঠুয়ার জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। এছাড়া একজন ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) সহ সাতজন আহত হন। সেই জঙ্গলকে ঘিরে পাঁচ বাহিনী অভিযানে নামে।ওই অভিযানে জঙ্গিরা এম৪ কার্বাইন এবং গ্রেনেডের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনার গভীরতা প্রকাশ করে। পুলিশের ধারণা, এই গ্রুপটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সোমবারের এই নতুন সংঘর্ষে আটকে পড়া জঙ্গিরা সেই গ্রুপের সদস্য হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা নিহত পুলিশ কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের বীর জওয়ানদের বলিদান ভুলব না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকܫবে।' জম্মু অঞ্চলে বিজেপি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় বড় আকারের তল্লাশি অভিযানের দাবি তুলেছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা বাহিনীকে খাদ্য ও সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছে।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে ভারতকে কে🅰মন দেখতে লাগে? মন ছুঁয়ে যাওয়া জবাব দিলেন সুনীতা উইলিয়ꦑামস
নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ
নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযানে কঠোর পদক্ষেপ অবলম্বন করেছে। পাঞ্জতিরথি এলাকার ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি ভূখণ্ড অভিযানকে চ্যালেঞ্জিং করে তুললেও, সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী (প্যারা ফোর্সেস) এবং এসওজি-র সমন্বিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিদের পালানোর পথ♈ বন্ধ করে দেওয়া𒁏 হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজি নলিন প্রভাত এবং জম্মু জোনের আইজি ভীম সেন টুটি গত কয়েকদিন ধরে কাঠুয়া অভিযানের তদারকি করছেন। স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এলাকার সড়ক ও জনবহুল স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জম্মু-পাঠানকোট জাতীয় সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে গত ২৩ মার্চ হীরানগর সেক্টরের কাছে যে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল, তারাই কাঠুয়ার হামলার সঙ্গে জড়িত।