গভীর রাতে যখন রাজ্যসভায় ওয়াকফ সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটি হচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোজী ব্যাঙ্ককে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই আজ সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হওয়া নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন নরেন্দ্র মোদী। বার্তা দিলেন দেশের মুসলিমদের। (আরও পড়ুন: 🧸পশ্চিমবঙ্গে কতগুলি ওয়াকফ সম্পত্তি আছে? কলকাতার কোন সব জায়গার ওপরে দাবি ওয়াকফের?)
আরও পড়ুন: 💜ইউনুসের উস্কানির পর উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে মুখ খুললেন খোদ মোদী, ভারতের PM বললেন…
আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী লেখেন, 'সংসদের উভয় কক্ষে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল এবং মুসলিম ওয়াকফ (বাতিল) বিল পাশ হয়েছে। আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে এটি। এই বিল বিশেষ করে তাদের সাহায্য করবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিকে রয়ে গিয়েছেন। যার জেরে তাদের মতামত প্রকাশ এবং সুযোগের থেকে বঞ্চিত করা হত। কয়েক দশক ধরে, ওয়াকফ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব ছিল। মুসলিম মহিলা, দরিদ্র মুসলিম, পাসমন্দা মুসলিমদের স্বার্থের ক্ষতি হয়েছে এতে। সংসদে পাশ হওয়া আইনগুলি ওয়াকফে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং জনগণের অধিকারও সুরক্ষিত করবে। আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করব যেখানে কাঠামো আরও আধুনিক হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সংবেদনশীল হবে। আরও বড় কথা, আমরা প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এভাবেই আমরা একটি শক্তিশালী, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আরও সহানুভূতিশীল ভারত গড়ে তুলি।' (আরও পড়ুন: 🌟দিনহাটায় বিএসএফের গুলিতে নিহত ১ পাচারকারী, উদয়নের 'অন্য দাবি' ঘিরে বিতর্ক)
আরও পড়ুন: ꦏশুল্ক ছুরিতে রক্তাক্ত US শেয়ার বাজার, কেন নাসডাক পড়ল ৬%, ডাও জোনস ১৬৭৯ পয়েন্ট?
🤡 উল্লেখ্য, গতকাল গভীর রাতে রাজ্যসভাতেও পাশ হয় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বৃহস্পতিবার বিলটি পেশ করা হয়েছিল সংসদের উচ্চকক্ষে। সেখানেও প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনা হয় এই বিলটি নিয়ে। এরপর তা অনুমোদিত হয় রাজ্যসভাতেও। বিলটির পক্ষে ১২৮টি এবং বিপক্ষে ৯৫টি ভোট পড়ে উচ্চকক্ষে। রাত ২টো ৩৪ মিনিটে এই ভোটাভুটির ফল ঘোষিত হয়। উল্লেখ্য, ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও পরিচালনার উন্নতির লক্ষ্যে মোদী সরকার এই বিলটি এনেছিল বলে দাবি শাসকপক্ষের। এই আবহে গতকাল রাত ১২টা ৫৫ নাগাদ ওয়াকফ সংশোধনী নিয়ে বিতর্কের উপরে জবাবি ভাষণ দেওয়া শুরু করেন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তারপর রাত ১টা ১১ মিনিটে রিজিজুর জবাবি ভাষণ শেষ হয়। এরপর উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ধনখড় বিল পাশের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ধ্বনিভোটের মাধ্যমে সম্মতি চান। ধ্বনিভোটে সরকার পক্ষকে জয়ী ঘোষণা করেন তিনি। তবে বিপক্ষ ডিভিশনের (ভোটাভুটি) দাবি জানায়। এরপর ভোটাভুটি শুরু হয় রাজ্যসভায়। এই বিলটি পাশ করাতে বিজেপির প্রয়োজন ছিল ১১৯টি ভোটের। তারা সেই সংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা বেশি ভোটই পায়। ৩৩ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাশ হয় সংসদের উচ্চকক্ষে।