গত ২৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারের হাসিমারার সুভাষিণী চা–বাগানের মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল জন বারলাকে। বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূল ক🌟ংগ্রেসে পা বাড়িয়েছেন তিনি। এবার চা–বাগানে সক্রিয় হচ্ছেন জন বারলা। আগামী ১১ এপ্রিল তৃণমূল কংগ্রেস জলপাইগুড়িতে প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনের আঞ্চলিক অফিস ঘেরাও করবে। আর এই কর্মসূচিতে দেখা যেতে পারে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদকে। যদিও এই বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। ইতিমধ্যেই চা–বাগান এলাকায় বিজেপি সংগঠন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন জন বারলা। এখন উত্তরবঙ্গে ভাল সংগঠন রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তার সঙ্গে জন বারলার সাহায্য মেলায় এখন উত্তর জুড়ে ঘাসফুলের রমরমা।
জন বারলা মনে করেন, অসমে চা–বাগানের আদিবাসী শ্রমিকদের তুলনায় বাংলায় আদিবাসী শ্রমিকদের আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতি অনেক ভাল। এবার এখানে তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল সংকোশ এবং এলেনবাড়ি থেকে দুটি পদযাত্রা হবে। সেখানে জন বারলার যোগ দেওয়ার কথা আছে। তারপর পিএফ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ১১ এপ্রিল। জন বারলার পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এবার অফিশিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বারলা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ𝕴 প্রকাশ চিকবড়াইক বলেছেন, ‘জন বারলা পদযাত্রায় যোগ দেবেন কিনা সেটার কোনও তথ্য পাইনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেমন নির্দেশ দেবেন তেমন হবে।’
আরও পড়ুন: ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার নিয়োগ দিঘায়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ
তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই যে জন বারলা আছেন সেটা তাঁর কথাবার্তাতেই স্পষ্ট হয়েছে। চা–বাগানের জমির পাট্টা দেওয়ার বিষয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন জন বারলা। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এখানকার চা–শ্রমিকদের জমির পাট্টার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শ্রমিকরা চান তাঁরা যেটুকু জমিতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছেন সেই পুরো জমিইꦏ পাট্টা দেওয়া হোক। এটা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললে হয়ে যাবে, আমি নিশ্চিত। অসমে তো বিজেপির সরকার। সেখানে তো শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়া হয়নি। উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘ কয়েক বছর উল্লেখযোগ্য ভোট না পেলেও মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রকল্প চালু করেছেন। বিজেপি একটা প্রকল্পের কথা বলুক, শ্রমিক স্বার্থে করেছে।’
ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার একের পর এক বন্ধ চা–বাগান খুলে দিয়েছে। তাতে চা শ্রমিক যাঁরা তাঁদের লাভ হয়েছে। কাজের সুযোগ ফিরে আসা এবং সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। তার উপর পর্যটনের স্বার্থে চা–বাগানের অব্যবহৃত জমির ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে আয়ের সুযোগ করা হচ্ছে। যাকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন জন বারলা। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা নিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার খেলায় মেতেছে। রাজ্য সরকার তো বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ৩০ শতাংশ তখনই প্রযোজ্য হবে যখন ১৫ শতাংশে সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ হবে।’ সূত্রেরও খবর, জন বারলা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর কোনও সরকারি পদ পাবেন।