𝕴 নাগরিক পরিষেবা–সহ নানা ইস্যুতে পানিহাটির সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান মলয় রায়ের কাজ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাই পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কড়া নির্দেশে নানা টালবাহানা করেও চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয় মলয় রায়কে। আর এবার সেই চেয়ারে বসলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে। আজ, চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার শপথ নিলেন সোমনাথ দে। ২০২০–২০২২ সাল পর্যন্ত পানিহাটি পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলেছেন সোমনাথ। আজ বোর্ড অফ কাউন্সিলরদের বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জনের মধ্যে ৩২ জন কাউন্সিলরের সমর্থনেই সোমনাথ দে চেয়ারম্যান মনোনীত হন। তবে প্রাক্তন চেয়ারম্যান মলয় রায় আজকের বৈঠকে আসেননি।
ไএই নিয়ে গুঞ্জন শুরু হতেই তাতে জল ঢেলে দেন সোমনাথ দে। তিনি জানিয়ে দেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যান মলয় রায় অসুস্থ। তাই তিনি আজ আসতে পারেননি। তবে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। আজ শপথ নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোমনাথ দে বলেন, ‘মানুষকে উন্নতমানের পরিষেবা দেওয়াই আমার প্রথম কাজ হবে। বিরোধীদের কথার এই মুহূর্তে কোনও উত্তর দেবো না। আগে কাজ করব। আর যে অমরাবতী মাঠ নিয়ে এত বিতর্ক সেই গোটা বিষয়টি রাজ্য সরকার দেখছে। সরকারিভাবে মাঠ অধিগ্রহণ হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণ করে খুনের চেষ্টা মথুরাপুরে, প্রতিবেশী যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ
এদিকে অমরাবতী মাঠের বড় অংশ আবাসন প্রকল্পের জন্য বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই অভিযোগ ওঠে সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান মলয় রায়কে নিয়ে। এই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে দেখে হস্তক্ষেপ করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরমন্ত্রীর ধমকে পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। তারপর মুখ্যমন্ত্রী যে বিষয়টি নিয়ে রেগে গিয়েছেন সেটা জানিয়ে দেন ফিরহাদ হাকিম সরাসরি মলয় রায়কে।🐼 এটা জানার পরই পদত্যাগ করেন মলয়। না হলে তার আগে পর্যন্ত দলীয় হুইপ অগ্রাহ্য করে পদত্যাগ করতে চাইছিলেন না মলয় বলে অভিযোগ। যা নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে পানিহাটির ৮৫ বিঘার অমরাবতী মাঠ বিক্রি করা বিতর্ক তৈরি হয়। তাতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মাঠটিকে সরকারিভাবে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আর পানিহাটির পুরপ্রধান মলয় রায়কে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দু’দফায় মলয় রায়কে ফোন করে সেই নির্দেশ জানান।🉐 পুরমন্ত্রীর ফোন পেয়ে তাঁর চেতলার বাড়িতে ছুটে যান মলয় রায়। আর ১২ মার্চ দুই প্রতিনিধির মাধ্যমে এসডিও’র কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এই মলয় রায়ই বলেছিলেন ‘খেলা হবে’। যা নিয়ে তেতে ওঠে পানিহাটির রাজনীতি।