মুখস্থ করে, পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পরিবর্তে স্কিলের উপর বেশি জোর দিচ্ছে ভারত। আসন্ন চাকরির বাজারে এই স্কিলই হবে একমাত্র সফলতার অস্ত্র। প্রায় দশ বছর ধরে এই স্কিল মিশনে কাজ করে যাচ্ছে ভারত। অবশেষে তার ফলা�♏�ফল দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশ ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্কিল বাড়িয়ে সবচেয়ে প্রস্তুত চাকরির বাজারগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে৷ ফিউচার অফ ওয়ার্ক ক্যাটাগরিতে আমেরিকার পরেই ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রথম কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিল সূচকে ভারত সামগ্রিকভাবে ২৭তম স্থান পেয়েছে, মূল প্যারামিটার জুড়ে র্যাঙ্কিংয়ের কথা বলতে গেলে, দক্ষতার ক্ষেত্রে ৩৭তম স্থানে আছে ভারত, শিক্ষাগত প্রস্তুতিতে ২৬তম এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরে ৪০তম স্থানে বিদ্যমান ভারত। ভারত তার কর𒅌্মশক্তিতে এআইকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে৷
উল্লেখ্য, ১৯০টিরও বেশি দেশের ডেটা মূল্যায়ন করে, ২৮০ মিলিয়নেরও বেশি চাকরির পোস্টিং, পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কোন কোন স্কিলের চ🐭াহিদা রয়েছে সে সম্পর্কে জেনে,৫০০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৭.৫ মিলিয়ন গবেষণাপত্র খুঁটিয়ে দেখে এ꧟ই সার্ভে করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (ভিসি) থেকে কম তহবিলের মতো নানান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও ভারত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ভিসির জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান। এটি দেখায় যে ভারতে বিনিয়োগের জন্য একটি শক্তিশা♋লী ব্যবস্থা রয়েছে। আসলে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হল সেই অর্থ যা বিনিয়োগকারীরা নতুন বা ক্রমবর্ধমান ব্যবসায় বিনিয়োগ করে থাকেন, যে ব্যবসার সফল হওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিময়ে, বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই ওই ব্যবসার শেয়ার নেন। এটি কোম্পানিগুলির বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়ার একটি উপায়, বিশেষ করে যখন তারা সবে বাজারে এসেছে।
ভারতের জন্য পরামর্শ
ভারতকে এটা পরামর্শ দেওয়া হ꧃য়েছে যে উচ্চ শিক্ষার সুযোগের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে হবে, উদ্যোক্তাদের চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করতে হবে এবং গ্রিন স্কিল শেখানোর উপর ফোকাস করতে হবে। এরই পাশাপাশি শিল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে এবং ক্রমবর্ধমান এবং প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য গবেষণায় আরও বিনিয়োগ কর💦াও গুরুত্বপূর্ণ।
কাজের দারুণ সুযোগ নেমে আসবে
কিউএস বিশ্লেষণ এটাও দেখায় যে ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল এবং গ্রিন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে প্রস্তুত, যা ভারতকে অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে, এআই দক্ষতা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, ডিজিটাল দক্ষতা ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ২৪ মিলিয়ন গ্রিন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। উল্লেখ্য, গ্রিন কর্মসংস্থান হল এমন কাজ যা পরিবেশকে সাহায্য করে, যেমন পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এনার্জি নিয়ে কাজ করা, পুনর্ব্যবহার করা বা প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করার কাজ। আর গ্রিন প্রযুক্তি হল নতুন টুল এবং পদ্ধতি যা দূষণ কমাতে সাহা♌য্য করে এবং সৌরশক্তি বা বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো গ্রহের জন্য আরও ভাল উপায়ে কাজ চালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: (🎃Career Suggestion: ভারতে বড়লোক হতে হলে কোন কেরিয়ার ভালো? কলেজ পাস করে কী করবেন)
কিউএস-এর কৌশল ও বিশ্লেষণের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাত্তেও কোয়াকুয়ারেলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারতের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং তরুণ জনসংখ্যা এটিকে বৈশ্বিক মঞ্চে একটি অনন্য অবস্থান দিয়েছে৷ তবে, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে, উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে দেশের কর্মীবাহিনীকেও প্রাসঙ্গিক স্কিল শিখতেই হবে, এটা গুরুত্বপূর🦄্ণ। কোয়াকুয়ারেলি আরও বলেছেন যে ভারতের অর্থনীতি ২০২৫ এবং ২০৩০ এর মধ্যে বার্ষিক গড় ৬.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশটিকে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় শক্তিশালী করে তুলবে। যাইহোক, অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী, স্নাতক এবং কর্মীদের নতুন দক্ষতার সঙ্গে আপ টু ডেট থাকার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন হবে। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি অ্যাডাল্টদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি প্ল্যানিং করেছে। ভবিষ্যতে তাঁদের যে দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা শিখতে সাহায্য করার জন্য ভারতের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও এগিয়ে আসতে হবে।