গত মরশুমে কলকাতা নাইট রাইডার্স শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বেই আইপিএল শিরোপা জিতেছিল। তবে তাঁকে রিটেন করেনি কেকেআর। ছেড়ে দেয় তারা। এমন কী বেঙ্কটেশ আইয়ারকে ২৩.৭৫ কোটি দিয়ে কিনলেও, আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামেও শ্রেয়সকে নেওয়া༒র চেষ্টা করেনি কলকাতার দল।তারা যে কতটা ভুল করেছে, সেটা শ্রেয়স দেখিয়ে দিল আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে।
এই মরশুমে পঞ্জাব কিংඣস ২৬.৭৫ কোটিতে নাইটদের ট্রফিজয়ী অধিনায়ককে কিনে নেয়। এবং তাঁর হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয় প্রীতি জিন্টার দল। মঙ্গলবার আমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্সের বিরু🔯দ্ধে ২০২৫ মরশুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পঞ্জাব কিংস। আর সেই ম্যাচে শ্রেয়স ঝড় ওঠে আমেদাবাদে।
আইপিএলে নিজের সর্বোচ্চ স্কোর করলেন শ্রেয়স
টস জিতে এদিন পঞ্জাবকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক শুভমন গিল। পঞ্জাবের ইনিংসের ৩.১ ওভারে প্রভসিমরন সিং (৫) আউট হলে, তিনে ব্যাট করতে নামেন শ্রেয়স। আর শুরু থেকেই তিনি বড় শট খেলতে শুরু করেন। এদিন ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন শ্রেয়স। গুজরাটের কোনও বোলারকেই রেয়াদ করেননি তিনি। যার নিটফল, ৪২ বলে ৯৭ রান করে তিনি অপ༺রাজিত থেকে যান। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি ছক্কা এবং ৫টি চারে। এই ৯৭ রান আইপিএলে শ্রেয়সের সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০১৭ সালে গুজরাট লায়ন্সের বিরুদ্ধে তিনি ৯৬ রান করেছিলেন। এতদিন সেটাই ছিল শ্রেয়সের সর্বোচ্চ স্কোর।
শ্রেয়সকে সেঞ্চুরি করতে দিলেন না শশাঙ্ক
এদিন শ্রেয়স আইপিএলে তাঁর প্রথম শতরান করে ফেলতে পারতেন। কিন্তু সেটা সম্ভব হল না শুধুমাত্র শশাঙ্ক সিংয়ের কারণে। শেষ ওভারে শশাঙ্ক স্বার্থপরের মতো খেলেছেন। ১৯তম ওভারের শেষেই শ্রেয়সের সংগ্রহ ছিল ৯৭ রান। ২০তম ওভারে স্ট্রাইকে ছিলেন শশাঙ্ক। বল করতে এস𓆉েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। প্রথম বলে সিরাজকে ৪ মারেন শশাঙ্ক। দ্বিতীয় বলে তিনি ২ রান নেন। এখানেই যদি এক রান নিতেন শশাঙ্ক, ♓তবে শ্রেয়স শতরান পূরণ করার সুযোগ পেতেন। এর পরের বলগুলিতে একটি ওয়াইড ছাড়া, বাকি চারটিতে বাউন্ডারি হাঁকান শশাঙ্ক। আর শ্রেয়স সেঞ্চুরি করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
শেষ ও🧜ভারে সিরাজকে পিটিয়ে শশাঙ্ক ২৩ রান নিলেও, তিনি এদিন ভিলেন হয়ে গিয়েছেন। নেটিজেনরা তাঁর এমন স্বার্থপরতার জন্য ধুইয়ে দিচ্ছেন। শশাঙ্ক অবশ্য ইনিংসের পর অজুহাত দেন, ‘শ্রেয়স আইয়ার আমাকে প্রথম বল থেকেই বলেছিল, আমার সেঞ্চুরির কথা ভেব না। নিজের শট খেলে যাও।’ শ্রেয়স বললেও, এইটুকু বাস্তব বুদ্ধি বোধহয় সব প্লেয়ারের থাকে। ক্রিজে থেকেও মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারলেন না শ্রেয়স। তার জন্য একমাত্র দায়ী শশাঙ্কের স্বার্থপরতা। ২টি ছক্কা এবং ৬টি চারের হাত ধরে শশাঙ্ক ৪৪ রান করলেও, খলনায়ক হয়ে গেলেন তিনি।
হার্দিকের স্বার্থপরতা
২০২৩ সালের অগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হার্দিকের জন্য নিজের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করতে পারেননি তিলক বর্মা। সেই ম্যাচ ভারত ৭ উইকেটে জিতেছিল। ভারতের জয়ের জন্য তখন মাত্র ২ রান দরকার ছিল এবং দুই ওভারেরও বেশি বাকি ছিল। তিলক তাঁর তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৪৯ রানে ক্রিজে ছিলেন তিনি। সেই সময়ে সকলে ভেবেছিলেন যে, সেই সিরিজের ভারত অধিনায়ক হার্দিক হয়তো তিলককে অর্ধশতরান পূরণ করার সুযোগ দেবেন। কিন্তু তিনি সেসব কিছু করেননি। তার পরিবর্তে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ কর✅েছিলেন। এর পরেই ভক্তরা হার্দিককে ‘স্বার্থপর’ তকমা দিয়েছিলেন। এদিন একই কাজ করলেন শশাঙ্ক।