🥂 চর্চায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল। SSC-র তৈরি করা ২০১৬ সালের প্যানেল প্রায় সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে প্রায় ২৬ হাজার কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে নিজেদের চাকরি হারাতে হয়েছে। আপাতত তাই, চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, যেদিকেই চোখ রাখা যায়, সেদিকেই শোনা যাচ্ছে এই এক আলোচনা।
🃏২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে মানুষের আলোচনা ঠিক কেমন, সেবিষয়ে কনটেন্ট বানিয়ে ফেলেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ‘বং শর্ট’। ভিডিয়োর ক্যাপশানে তিনি দিয়েছেন, ‘ছাব্বিশ হাজার চাকরি, যোগ্য-অযোগ্য আর সাধারণ মানুষ’। কিন্তু কী আছে এই ভিডিয়োতে?
꧑ভিডিয়োতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই ভাবতে পারছিস, একসঙ্গে ২৬ হাজার ক্যান্ডিডেটস এর চাকরি বাতিল হয়ে গেল!’ আরেকজন একথায় উত্তর দেন, ‘হ্য়াঁ, কতকিছুই তো বাতিল হয়ে গেছে, প্রাইমারি থেকে ইংলিশ, সিঙ্গুর থেকে ন্যানো, কমেডিয়ান-এর থেকে চোখ! কী করতে পারি বল!’ অপরজন পাল্টা বলেন, ‘তারমানে তোর কোনও কিছুতেই কিছু যায় আসে না! তোর কিছু বলার অধিকার নেই?’ অপরজন তখন বলেন, ‘না নেই, আমি তো সাধারণ মানুষ মাত্র! কমন হিউম্যানের কোনও অধিকার নেই, সাধরণ মানুষ ভিক্ষে পেতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন করতে পারে না।’
ꦕআরও পড়ুন-কিং খান শাহরুখের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানির মামলা করেছিলেন মনোজ কুমার, কী ঘটেছিল?
𒆙আরও পড়ুন-ফের ‘ভাট ক্যাম্প’-এ যিশু সেনগুপ্ত, সঙ্গী এবার সৌরভ দাস, ব্য়াপার কী?
🐲এসব কথায় অবাক বয়ে অপরজন প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে প্রশ্নটা কে করব?’ উত্তর আসেন, ‘অবশ্যই যাঁরা ক্ষমতাসীন, তাঁরা সমস্যা তৈরি করবে, আমাদের মতো সাধরণকে সমস্যায় জড়াবে, সমস্যা সমাধান বের করার চেষ্টা করছি, এমন একটা ভান করে নিজেদের মধ্যে পাওয়াল গেম খেলবে, না পোষালে দল পাল্টাবে, তারপরই ফুল ল্য়াটারাল ডেমেজে কিছু সাধারণ পাবলিক শেষ হয়ে যাবে, আর আমরা যাঁরা থাকব, তাঁদেরকে ওই ক্ষমতায় থাকা লোকজন প্রশ্ন করবে কী তোমরা আমাদের জন্য বেঁচে গেলে তো? ঠিক কিনা? আর আমরা সহসা সমস্বরে একরাশ খুশিতে চিৎকার করে বলব, ঠিক ঠিক ঠিক ঠিক।’
🍬এসব কথা শুনে অপর পক্ষ বলে ওঠে, ‘ওয়ার্থলেস, সাধারণ পাবলিক ইউসলেস! জনগণের হাতে কোনও ক্ষমতা নেই?’ উত্তর আসে, ‘না নেই। সমস্যা নিয়ে ভাবলে যে সময় নষ্ট হয়, তার মধ্যে ১০টা বিরিয়ানি, আর ৫টা টক্সিক বিএফ জিএফ রিলেটেড রিল দেখা যায়। মানুষ বিনোদন চায়, বিনিয়োগ নয়’। ফের উত্তর আসে, ‘সেজন্যই মানুষকে জাগানো দরকার।’ পাল্টা অপরজন বলেন, ‘মানুষ জানতে চায় না, মানুষ একটু পাশ ফিরে শোয়, ব্যস ওই পর্যন্তই। এই যে বাইরে নোংরা পড়ে থাকলে আমরা দরজা-জানালা বন্ধ করে দিই। ভাবি জগৎটা সুন্দর আছে।’
ꦿরেগে গিয়ে অপরজন বলেন, ‘এতো পুরো সুবিধাবাদীর মতো কথাবর্তা!’ ফের অপরজন বলেন, ‘হ্য়াঁ আমি সুবিধাবাদী। আমি প্রশ্ন করতে পাই। কারণ আমার পাড়ার হাফ অশিক্ষিত নেতা সাদা স্কর্পিও চড়ে ঘুরে বেড়ায় পার্টির ব্য়াচ সামনে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমার ভয় লাগে দেখলে। আমি যেকোনও পার্টিকে প্রশ্ন করি, তাহলে তার অনুগামীরা এসে যদি আমায় ঘিরে ধরে হেনস্থা করে তাহলে আমার কিছু করার থাকবে না। আমি সোম-শুক্র ১০-১০ ডিউটি করি জাস্ট উইকেন্ডে একটু চিল করব বলে।….ফেসবুকে কবিতা লেখার জন্য ঠিক আছে, তবে ঠিক সময় আমাদের মাথায় কিছু থাকে না। আমরা সব ভুলে যাই, নিট, এসএসসি, তেলেঙ্গানার ৪০০ একর জমি থেকে সবুজ ধংস হয়ে যাওয়া, আমাদের কিচ্ছু মাথায় থাকে না। আমরা যাঁরা প্রিভিলেজ, তাঁরা শুধুই প্যাকেজ বাড়াই। আমরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও পার্টির অন্ধ আদর্শ…।’
ꦆএভাবেই মূলত ২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী, নীরব সাধারণ মানুষকে কটাক্ষ করে, ব্যঙ্গ করে এই ভিডিয়োটি বানিয়েছেন ‘বং শর্ট’। এভাবে সমস্যাগুলিকে তুলে ধরার জন্য অনেকেই এই বং শর্ট-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।