🐭 মাসের শেষে ইদের খুশিতে মাতবে গোটা বিশ্ব। শুরু হয়ে গিয়েছ শুভেচ্ছা বিনিময়। আর ঠিক সেই সময়ই তসলিমা নাসরিন সকলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন যে তাঁকে যেন কেউ ইদের শুভেচ্ছা না জানান। কিন্তু কেন এমনটা বললেন লেখিকা?
আরও পড়ুন: ಞজ্বালাপোড়া গরমে ঝাড়খণ্ডের ধূধূ প্রান্তরে দেব! রঘু ডাকাতের দ্বিতীয় শিডিউল শুরুর আগে কী ঘটালেন?
আরও পড়ুন: ಞ'মানুষ সৃষ্টি' করেছেন শুভশ্রী! ফের 'ভুল' ইংরেজি বলে ট্রোল্ড রাজ-পত্নী!
ইদ নিয়ে কী বার্তা দিলেন তসলিমা?
🅘এদিন সমাজ মাধ্যমে তসলিমা নাসরিন একটি পোস্ট করে জানিয়ে দেন তিনি ধর্ম মুক্ত মানুষ। তাই তাঁকে যেন কেউ ইদের শুভেচ্ছা না জানান। এই প্রসঙ্গে লজ্জা লেখিকার কথায়, 'আমার হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পরিচিত অপরিচিত বন্ধু বান্ধবীদের অনুরোধ করছি, আমাকে ঈদ মোবারক মেসেজ পাঠাবেন না। আপনারা যারা আমাকে মুসলমান ভাবেন, আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি শৈশব থেকেই ধর্ম মুক্ত মানুষ। ইসলাম আমার ধর্ম নয়। আমি মুসলমান নই। আমি বিশ্বাস করি মানবতন্ত্রে অর্থাৎ হিউম্যানিজমে, আমি বিশ্বাস করি মানবতায়।'
কে কী বলছেন?
🦩এক ব্যক্তি লেখেন, 'ধর্ম কিন্তু সংস্কৃতির একটা অংশ। সংস্কৃতি হল মানুষের দ্বারা সৃষ্টি যা প্রাচীন কাল থেকেই পালন করে আসছেন। সম্ভবত আপনাকে পূজা উৎযাপন করতে দেখেছি । আপনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নীতি এক হতে হবে যদি বলেন আপনি মানবতার মানুষ। মানবতার মানুষেরা মানুষকে বিভক্ত করে না। সমাজের সকল ধর্মের মানুষ তাঁদের কাছে সমান। সুতরাং আপনার কেবল একটি ধর্মের উপর বিদ্বেষ। কারণ এই ধর্মের একদল মূর্খ আপনাকে দেশান্তর করেছে। মুর্খের জন্য আপনি কেন সকলকে দোষারোপ করছেন?' আরেকজন লেখেন, 'এইখানে আপনার সঙ্গে মিলল না। আমিও ধর্মহীন। কিন্তু শুভ বিজয়া, ঈদ, ক্রিসমাস সব কিছুতেই শুভেচ্ছা জানাই ও শুভেচ্ছা নিই। ধর্মে নেই, উৎসবে আছি।' তৃতীয় ব্যক্তি লেখেন, 'মানবতার চেয়ে আর কোনও ধর্ম নাই। প্রয়োজনও নাই।' চতুর্থ জনের কথায়, 'আমি ঈদে কোনও কিছু না লিখলেও, কাউকে ঈদ মোবারক লিখতে ভালো লাগে। তবে পূজার ছবি ছাড়তেও ভালো লাগে, তাদের উৎসাহ দিতেও পছন্দ করি।' পঞ্চম জনের কথায়, 'মানবতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, মানবতা মোবারক।'
𒆙 তিনি সম্প্রতি আরও একটি পোস্ট করেন দেহদান নিয়ে। সনজিদা খাতুনের মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ বিদায় গানে গানে জানানোয় অনেকেই কটাক্ষ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে প্রয়াত গায়িকাকে কি দাহ করা হবে না কবর দেওয়া হবে? সেই প্রসঙ্গ টেনেই তসলিমা লেখেন, 'ঢাকায় সনজিদা খাতুনের বিদায় দৃশ্যটি বড় সুন্দর, বড় শোভন, বড় হৃদয়স্পর্শী ছিল। গান গেয়ে তাঁকে বিদায় দিয়েছেন তাঁর গুণমুগ্ধ অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী। এর চেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর কী হতে পারে! তাঁর জীবন, নিঃসন্দেহে সার্থক, এবং পূর্ণ। আমি মরণোত্তর দেহদান করেছি বহু বছর আগে। ল্যাংগন আর এইমস হাসপাতালের বডি ডোনেশান কার্ড বহন করি হাতব্যাগে। মাঝে মাঝে ভাবি, আত্মীয়হীন স্বজনহীন বাস করি এক শহরে, আশে পাশে তেমন মানুষও নেই, যারা জানে মরণোত্তর দেহদান মানে কী। যদি মৃত্যুর পর কেউ না জানে আমাকে নিয়ে কী করতে হবে, কোথায় পাঠাতে হবে। তাহলে কী হবে জানি না। কেউ রবীন্দ্র সঙ্গীত না গাক, কেউ আমার কবিতা না পড়ুক, কেউ আমার হাত হাতের মুঠোয় না রাখুক, আমি একা একাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারব। আমি মরে গেলে আমার জন্য চোখের জল ফেলার কেউ নেই। এ এমন কোনও ডিজাস্টার নয়। শুধু আশা করি, হাসপাতালে ডেডবডি পৌঁছে দেওয়ার কেউ যেন থাকে। ভুলেও যেন কবর না দিয়ে ফেলে, বা পুড়িয়ে না ফেলে। মেডিক্যাল রিসার্চের জন্য যেন দেহটি কাজে লাগে। জীবনকে অর্থবহ করেছি মানবতার জন্য লেখালেখি করে, মৃত্যুকেও অর্থবহ করেছি রিসার্চের কাজে দেহ দিয়ে। আপনারাও মরণোত্তর দেহ দান করুন মেডিক্যাল রিসার্চের কাজে'