🧜 হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গাছ কাটা এবং জমি দখলে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জমি দখল নিয়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছিল পড়ুয়ারা। পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয় হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়। আপাতত পড়ুয়াদের দাবি মেনে নিয়ে তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকারকে যাবতীয় কার্যকলাপ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।এর আগে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টও গাছ কাটা এবং জমি দখলে স্থগিতাদেশ জারি করেছিল।
ﷺসংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৪০০ একর জমি। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়তে চায় রাজ্য সরকার। সে জন্য রবিবার সেখানে বুলডোজার চালাতে গেলে প্রতিবাদে নামেন পড়ুয়ারা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে নামেন পড়ুয়ারা। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন বুলডোজারের উপরে উঠে। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়ান পড়ুয়ারা। কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পড়ুয়াদের মতে, ৪০০ একর জমিতে প্রচুর জীববৈচিত্র রয়েছে। গাছ কেটে ফেললে তা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই নিয়ে রাজ্যের রেবন্ত রেড্ডি সরকারে বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে বিরোধী ভারতীয় রাষ্ট্র সমিতি।
𒊎আরও পড়ুন-Singapore flight: হাত মুচড়ে কেবিন ক্রুকে খুনের হুমকি! সিঙ্গাপুরে গ্রেফতার মদ্যপ ভারতীয়
🐭বুলডোজার চালানোর প্রতিবাদে আদালতে আবেদন করেন হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের সঙ্গী হয় ভাটা ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও। যৌথভাবে তাদের আবেদন, ওই এলাকাটি বনাঞ্চল হিসাবে ঘোষিত হোক। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের আওতায় ওই অঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান হিসাবে গড়ে তোলা হোক, এমনটাই প্রস্তাব দিয়েছেন পড়ুয়ারা। যদিও তেলেঙ্গানা সরকারের পাল্টা দাবি, হায়দরাবাদের অনেক জায়গাতেই সাপ, ময়ূর রয়েছে। কিন্তু সবকিছুকে বনাঞ্চল বলা যায় না। দুপক্ষের যুক্তি শুনে আপাতত ওই জমিতে বুলডোজার চালানো এবং গাছ কাটায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিচারপতি ভূষণ আর গাভাই এবং এজি মাসিহের বেঞ্চ। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বৃহস্পতিবারই তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার বিকেল ৩:৩০ টের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দেবেন।সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, 'সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে কর্তৃপক্ষ সপ্তাহান্তে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে গাছ কেটে ফেলেছে। উপরন্তু, জঙ্গলটি আট প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল বলে জানা গেছে। তাই আমরা তেলেঙ্গানার মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, আপাতত কাঞ্চা গাছিবাউলি বনাঞ্চলে কোনও গাছ কাটা যাবে না।' বিকেল ৩ টে ৪৫ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে ফের এই মামলার শুনানি হবে।
🌱এদিকে, তেলেঙ্গানা সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে জানান, তেলেঙ্গানা হাইকোর্টও এই বিষয়টির উপর নজর রাখছে এবং আজ দুপুর ২ টো ১৫ নাগাদ এই আমলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, হাইকোর্টের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি।এর আগে গাছ কাটায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে কোনও কাজ হবে না বলে জানায় আদালত। যদিও পড়ুয়াদের যুক্তি, গাছ কাটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরোধিতা হচ্ছে। তেলেঙ্গানা সরকারের অনুমতি থাকলেও সুপ্রিম আদেশ লঙ্ঘন করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, গাছ কাটলে কোনও খারাপ প্রভাব পড়ে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করতে হবে।
꧑আরও পড়ুন-Singapore flight: হাত মুচড়ে কেবিন ক্রুকে খুনের হুমকি! সিঙ্গাপুরে গ্রেফতার মদ্যপ ভারতীয়
𝔍অন্যদিকে, কাঞ্চা গাছিবোলির যে জমি নিয়ে এত অশান্তি সেখান থেকে ভেসে আসছে ভেসে আসছে ময়ূরের কান্না। নিরীহ পশুপাখিদের আবাস হারানোর আর্ত চিৎকার।উপড়ে যাচ্ছে নিরীহ পশুপাখিদের আবাস। এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।প্রশাসন সূত্রে খবর, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেস সরকারের। সে জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই তাদের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওই জমির কোনও সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সাল থেকে ওই জমির মালিক রাজ্য সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ওই পার্ক তৈরি হলে পরিবেশে তার বড়সড় প্রভাব পড়বে। অনেক গাছও কেটে ফেলা হবে।