আজ চিন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। আর আজই আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। এই আবহে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ দিবস উপলক্ষে ইউনুসকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন নরেন্দ্র মোদী। হাসিনার বিদায়ের পর থেকে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলিয়ে ফেলার চেষ্টা বাংলাদেশে চলছিল, সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা থেকে খানিকটা হলেও সরে আসতে দেখা গিয়েছে সরকারকে। এই আবহে কলের কণ্ঠের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোদী নিজের বার্তায় লেখেন, 'বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনটি আমাদের ইতিহাস এবং ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।' (আরও পড়ুন: 🐟ধর্মীয় মিছিলে পাথর নিক্ষেপ, হিংসা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন বিপুল সংখ্যক পুলিশ)
আরও পড়ুন: ♛'অভ্যুত্থান গুজবে' নাম থাকা বাংলাদেশি সেনা কর্তা দেখা করলেন জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে
মোদী আরও লেখেন, 'আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে এই ইতিহাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের সম্পর্কের জন্য একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে চলেছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বিকশিত হয়েছে। শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধির জন্য আমরা একযোগে কাজ করব। এবং একে অপরের স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' এদিকে মোদীর এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। (আরও পড়ুন: 🎃'বিদেশের মাটিতে ভারত বিরোধীদের মারছে', RAW-কে নিষিদ্ধ করার দাবি মার্কিন কমিশনের)
꧟প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার করতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। এই বিষয়ে ঢাকার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল দিল্লিকে। আর সম্প্রতি এই নিয়ে ভারতের বিদেশ বিষয়ক সাংসদীয় কমিটির কাছে মুখ খুলেছিলেন এস জয়শংকর। আর তার পরেই ঢাকায় বাংলাদেশি উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তৌহিদ জানান, ভারত এখনও কোনও জবাব দেয়নি।
🐼এর আগে বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিজেই জানিয়েছিলেন, মোদী-ইউনুস বৈঠকের আবেদন জানিয়ে দিল্লির কাছে অনুরোধ করেছিল ঢাকা। এই আবহে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে সংসদীয় কমিটির কাছে মুখ খোলেন জয়শংকর। বার্তাসংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে জয়শংকর বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বৈঠকের অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে।
🌊উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ২ থেকে ৪ এপ্রিল বিমস্টেক (দ্য বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। প্রসঙ্গত, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হবে না বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। আবার কয়েকদিন আগে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনুস বলেছিলেন, 'ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থেকে উপায় নেই'। এদিকে দাবি করেছিলেন, সরকারে আসার পরই নাকি মোদীর সঙ্গে 'কথা' হয়েছিল তাঁর। অনেক বিশ্লেষকেরই মত, থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক সম্মেলনে মোদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করার জন্যেই 'সুর' নরম করেছেন ইউনুস। নয়ত যেই ইউনুস সরকারে আসার আগে ভারতকে 'সেভেন সিস্টার' নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তিনিই সম্প্রতি উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে যৌথ অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে নিউইয়র্কেও মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে বিফল হয়েছিলেন ইউনুস। এবার ব্যাঙ্ককে সেই সাক্ষাৎ সম্ভব হয় কি না, সেটাই দেখার।