মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ‘ছাড় যুক্ত পারস্পরিক শুল্ক’ নীতি মেনে ট্রাম্প প্রশাসন নয়া দিল্লির পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ কর চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে। তবে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ভারতের জন্য বিরাট কোনও ধাক্কা নয় বলে জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের এক আধিকারিক।এমনটাই দাবি রিপোর্টে। হ𒈔োয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন থেকে বুধবার ভারতীয় পণ্যে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ, ভারত থেকে মার্কিন মুলুকে রপ্তানি হওয়া সমস্ত পণ্যের উপর কার্যকর হবে ২৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া পণ্যের দাম সে দেশের বাজারে বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন-Karnataka: কন্যা-সহ পরꦓিবারের ৩ সদস্যকে গুলি! কর্ণꦚাটক আত্মঘাতী স্কুল ভ্যান চালক বাবা
ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপ হওয়ায় পরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে সেই পরিস্থিতি প্রাথমিক ভাবে বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রক দাবি করেছে, ভারতের উপর এর মিশ্র প্রভাব পড়বে।সূত্রের খবর, নয়া শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর তুল্যমূল্য বিচার করে পুরো পরিস্থিতি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। আগামী ৫ এপ্রিল থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া ভারতীয় পণ্যে বিশ্বজনীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। বাকি ১৬ শতাংশ যোগ হবে ১০ এপ্রিল থেকে। ভারতীয় অফিসার জানিয়েছেন, ট্রাম꧂্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক নিয়ে কোনও দেশের কোনও বক্তব্য থাকলে তা জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন সেই দেশের আর্জি বিবেচনা করে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিতেও পারে। হিন্দুস্তান টাইমসকে আরেক আধিকারিক বলেন, ভারতের অটো যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক, চিংড়ি, ইস্পাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এই পাল্টা শুল্ক আরোপে ভারত শ্রম খাতে চিন, বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনাম-সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে। অন্য এক ভারতীয় অফিসার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে এ মহৎ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নত করা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তবে কোন ইন্ডাস্ট্রিতে কত শতাংশ শুল্ক চাপাবে ট্রাম্প প্রশাসন, এ নিয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত রিপোর্ট এখন সামনে আসেনি। সেই রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে পুরো চিত্র। তবে যে সমস্ত সেক্টরের প্রোডাক্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন বেশি পরিমাণে রপ্তানি করা হতো, সেই সব সেক্টরের প্রোডাক্টে সে দেশে দাম🌠 বাড়লে কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তা সময়ই বলবে।
আরও 🦂পড়ুন-Karဣnataka: কন্যা-সহ পরিবারের ৩ সদস্যকে গুলি! কর্ণাটক আত্মঘাতী স্কুল ভ্যান চালক বাবা
ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ঘোষণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্কের ব্যাপারে ভারত খুবই কঠোর। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার খুব ভাল বন্ধু। তিনি কিছুদিন আগেই এই দেশ থেকে ফিরেছেন। কিন্তু, ওরা আমাদে🍰র ভাল করে ট্রিট করে না। ওরা আমাদের থেকে ৫২ শতাংশ শুল্ক নেয়। কিন্তু, আমরা সেই তুলনায় ওদের থেকে কিছুই নিই না।' ট্রাম্প জানায়, বিশেষ ছাড় দিয়েই ভারতের জন্য ২৬ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে চুক্তির প্রথম পর্যায়ের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।