ব্যঙ্গ মানুষের জীবনকে ꦑসমৃদ্ধ করে। রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ির মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরার ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিবসেনা সমর্থকদের রোষানলের মুখে পড়েছেন কুণাল। মুম্বইয়ের খার এলাকার যে হোটেলের ভিতর ‘হ্যাবিট্যাট’ নামের স্টুডিয়োয় শো করেছিলেন তিনি, সেখানেও কার্যত ধ্বংসলীলা চালায় শিবসেনা সমর্থকরা। তাঁকে সমন পাঠানো হয়েছে মুম্বই পুলিশের তরফে।
রাজ্যসভার সাংসদ ইমরান ইনস্টাগ্রামে একটি কবিতা পোস্ট করেছিলেন।ওই কবিতাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপা❀ত। তার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের হয় গুজরাটের জামনগরে। তবে সেই এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওখা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে কংগ্রেস সাংসদের মামলার শুনানি হয়। প্রথমেই ইমরানের বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত। সঙ্গে দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ নেই। বরং গুজরাট পুলিশ 🦋যেভাবে অতি উৎসাহী হয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটা নিন্দনীয়। তাছাড়া বাকস্বাধীনতায় ইচ্ছামতো লাগাম পরানো যায় না, তার জন্য যথেষ্ট যুক্তি থাকা দরকার। সংবিধানের ১৯ (২) অনুচ্ছেদ কখনই ১৯ (১) অনুচ্ছেদে বর্ণিত অধিকারকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। গুজরাট পুলিশের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শত্রুতা বা বিরোধিতা ছড়ানোর অভিযোগ কোন অসুরক্ষিত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা যায় না, যারা সব কিছুতেই হুমকি বা সমালোচনা দেখতে পায়।
বিচারপতির বেঞ্চ আরও বলেছে, 'মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশ একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর অভাবে সংবিধান অনুযায়ী মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাহিত্য, কবিতা, নাটক, শিল্প এবং ব্যঙ্গ-এগুলো মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।' দুই বিচারপতি আরও বলেন, যে কোনও সুস্থ গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকলে সেটা যুক্তি দিয়ে বিরোধিতা করা উচিত, দমনপীড়নের মাধ্যমে নয়। বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে আদালতকেই।♑'
গুজরাট হাইকোর্টের সিদ্ধান্🍎তের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আদালত ও পুলিশকে সংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। আদালত আরও বলেছেন, 'মুক্ত বক্তৃতা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান অধিকার। আদালতগুলির দায়িত্ব হল মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।'
প্রসঙ্গত, ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করতে চায়নি গুজরাট হাইকোর্ট। তাদের দাবি ছিল, জনপ্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন ইমরান। শেষপর্য𒐪ন্ত সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস সাꦕংসদ।