গোটা রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি। আর এবার বিজেপির বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। মালদায় বিজেপি পরিচালিত হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে টেন্ডারে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোলার লাইট প্রকল্পের জন্য নিয়ম না মেনেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অবিলম্বে টেন্ডার বাতিলের পাশাপাশি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ♐অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: রাজ⛎্য সরকারের আমলার বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন রতুয়ার TMC নেত্রী
মালদায় বিজেপিಞ পরিচালিত একমাত্র পঞ্চায়েত সমিতি হল হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতি। এখানকার বিধানসভা এমনকী লোকসভা আসনও বিজেপির দখলে। ৩১ আসনের এই পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির সদস্য রয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া, তৃণমূলের ১৩, সিপিএমের ২ এবং কংগ্রেসের একজন সদস্য রয়েছেন। এই পঞ্চায়েত সমিতিতে সোলার লাইট প্রকল্পে ব্যাপক স্বজনপোষণ হয়েছে, তাই অনলাইনের পরিবর্তে অফলাইন টেন্ডার হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। অভিযোগ, ২৮ টি সোলার লাইট প্রকল্পের সবই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন বিজেপি সদস্যরা। নিজেদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচে ২৮টি সোলার লাইট বসানোর জন্য টেন্ডার ডাকা হয় গত ২৯ জানুয়ারি। তৃণমূলের দাবি, এক্ষেত্রে অনলাইনে টেন্ডার ডাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা করেননি বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই অফলাইন টেন্ডার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিরোধীদের সমিতি এলাকায় কোনও কাজের বরাতও দেওয়া হয়নি। এরপরেই ব্লক প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে টেন্ডার বা🔥তিলের দাবি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মালদার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু না♒রায়ণ চৌধুরি বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এক লক্ষ টাকার উপরে কোনও কাজ হলে ট⛎েন্ডার অনলাইনে ডাকতে হবে। নিয়ম সকলকে মানতে হবে। নিয়ম বিজেপির নয়।’ ঘটনায় দুর্নীতিতে যুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, পঞ্চায়েত সমিতি♔কে বিকল করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। এপ্রসঙ্গে মালদার বিজেপি নেতা অম্লান ভাদুড়ি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া করেছেন বিডিও। যিনি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন আধিকারিক। এখানে পঞ্চায়েত সমিতির ⭕সভাপতির ভূমিকা নেই। আসলে ভুয়ো অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত সমিতিকে বিকল করার চেষ্টা হচ্ছে। মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদ জানান, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হবিবপুরের বিডিও এবং জেলা, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিককে ঘটনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।