♌ ডাইনি সন্দেহে এবার এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার জেরে মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের যদুপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জহরাতলা গোবিন্দপুর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ওই গৃহবধূর পুত্রবধূ–সহ তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গৃহবধূ এই ঘটনার পর অভিযোগ করেছেন, কয়েক বছর আগে তাঁর দুই ছেলে পরপর অসুস্থ হয়ে মারা যান। আর তখন থেকেই তাঁকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া শুরু হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন ওই গৃহবধূ। যা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
𓃲এদিকে ওই গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর ছেলে এবং পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকে। তখনও তাঁকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। ডাইনি অপবাদে দিয়ে প্রায়ই মারধর করা হতো তাঁকে। এবার সেটা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার ওই গৃহবধূকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে তাঁর বৌমা বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ইংরেজবাজার থানায় বৌমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বধূ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই গৃহবধূর বৌমা এবং এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও ওই গৃহবধূর আর এক ছেলের দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: মধুকবির বসতবাড়িকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে! স্মৃতি ধরে রাখতে হাইকোর্টে কলকাতা পুরসভা
অন্যদিকে গৃহবধূকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করছিলেন তাঁর পুত্রবধূ বলে অভিযোগ তোলায় এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। পড়শিরা সঠিক সময়ে চলে আসায় প্রাণে বাঁচেন ওই গৃহবধূ। এই ঘটনায় ইংরেজবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। তবে গৃহবধূর এক ছেলের দাবি, এটি একটি পারিবারিক গোলমাল। নির্যাতিতা গৃহবধূ বলেন,ꦛ ‘ওরা স্বামী–স্ত্রী মিলে রোজ অশান্তি করত। আমি বলতাম কেন এমন করিস রোজ। আমায় তখন আমার ছেলে মারধর করত। ডাইনি বলে গালাগাল করত। আমার সহ্য হয় না। আমায় ডাইনি বলে পোড়াতে গিয়েছিল ছেলের বউ।’
এছাড়া এই ঘটনা নিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ’–এর মালদা শাখার সভাপতি সুনীল দাসের বক্তব্য,🎉 ‘ডাইনি সন্দেহে খুন বা পুড়িয়ে মারার চেষ্টা সম্পর্কে কোনও অভিযোগের আমার কাছে আসেনি। তবে এই ঘটনাগুলির পিছনে অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তি বা জমি সংক্রান্ত বিবাদও থাকে। তবে অবশ্যই আমরা প্রয়োজনে ওই গৃহবধুর বাড়ি যাব।’ গ্রামের প্রত্যেকটা মোড়ে এখন এই চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। ওই গৃহবধূ লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হতে এখন ইতস্তত বোধ করছেন। যদিও তাঁকে সাহায্য করছেন স্থানীয় পড়শিরা।