অমৃতাক্ষর ছন্দে তাঁর লেখা কবিতা বাঙালির হৃদয়ে মননে রয়েছে। ভিলেনকে হিরো বানানোর কারিগরও তাঁর লেখনিতেই উঠে এসেছে। ‘আমি কি ডরাই সখী ভিখারি রাঘবে’ থেকে শুরু করে কর্ণ🍌কে মহান করে তোলা তাঁর লেখনিতে উঠে এসেছে। তিনি বাঙালির স্মৃতিতে সদা জাগ্রত রয়েছেন। হ্যাঁ, তিনি মহাকবি মাইকেল মধূসূদন দত্ত। বাংলা তাঁকে মধুকবি বলেই চেনে। বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন꧙্যতম পথিকৃৎ এই মধুকবি। যাঁর সঙ্গে কলকাতার নিবিড় সংযোগ রয়েছে। অথচ তাঁর স্মৃতিধন্য বসতবাড়ি এখন ধ্বংসের মুখে। তাই তা বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে খোদ কলকাতা পুরসভা।
এদিকে আজও বেহালা এবং খিদিরপুরের মধ্যবর্তী পথে হেঁটে গেলে চোখে পড়ে মধুকবির বাড়িটি। যা একটা আস্ত ইতিহাস বহন করছে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন তারিখে মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যু হয়। আর কলকাতা পুরসভা তৈরি হয় ১৮৭৬ সালে। কলকাতা পুরসভার রেকর্ড অনুযায়ী, এখন যেটি ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড সেটাই একদা গার্ডেনরিচ এলাকার মধ্যে ছিল। তারপর কালের গতিতে ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়েছে। এখন ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে কলকাতা পুরসভার অধীনে। কিন্তু ২০০ বꦡছর পর এমন কোনও নথি কলকাতা পুরসভার কাছে নেই যেটা প্রমাণ করে ২০বি কার্ল মার্কস🏅 সরণির দোতলা বাড়িতেই জীবনের শেষটা কাটিয়েছিলেন মধুকবি।
আরও পড়ুন: ‘কোনও জায়গাকে সত্য অর্থে অনুভব করার উপায় হেঁটে যাওয়া’, লন্ডনে বসে লেখেন মমতা
অন্যদিকে এখন এই বাড়িটি ভেঙে বহুতল করার ছক কষা হয়েছে। যার ফলে সমস্ত স্মৃতি মুছে যেতে বসেছে মধুকবির। তাই তা ঠেকাতে কলকাতা পুরসভা সরাসরি চলে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আর তার সঙ্গে কলকাতা পুরসভাও কলকাতার ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহ করছে। ২০বি কার্ল মার্কস সরণির দোতলা বাড়ির সঙ্গে জড়িত কোনও প্রামাণ্য তথ্য জোগাড় করছে। এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার কমিশনার ধবল জৈন বলেন, ‘কলকাতা পুরসভার হেরটেজ তালিকায় ওই বাড়ি ঐতিহ্যশালী ভবন 📖হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে। কিন্ত🐓ু কলকাতা হাইকোর্টে সেই তথ্য গ্রাহ্য হয়নি। তবে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার আগে মেয়র পারিষদ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
এছাড়া কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ বিভাগ বলছে আপিল করার জন্য জোরালো তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই বাড়ির অংশটি ভাঙা হয়েছে। এখন পিছনের অংশ ভাঙার কাজ চলছে। আর এই বিষয়ে কলকাতার ইতিহাস গবেষক ডা. শঙ্কর নাথের বক্তব্য, ‘মাইকেল মধূসূদন দত্ত প্রথম ভারতীয় পিজি হাসপাতালে যাঁর চিকিৎসা হয়েছিল। কারণ তিনি খ্রিস্টান ছিলেন। ১৮৩৬–৩৭ সাল নাগাদ কাশীপ্রসাদ ঘোষের পরিবারের থেকে এই বাড়ি কিনেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরিবার। খꦗ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পরে ইউরোপ থেকে কলকাতায় এসে এই🍸 বাড়িতেই থাকতেন বলে শুনেছি।’