যে ব্যর্থতার হাত ধরে ২০২৪ সালের আইপিএল শেষ করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, ২০২৫-এ যেন তাদের আর সেখান থেকে উত্তরণ হয়নি। সেই ব্যর্থতার ধারাই এই বছরও চলছে। এই মরশুমে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। চেন্নাই সুপার কিংসের পর, এবার গুজরাট টাইটান্সের কাছেও লজ্জার হার রোহিত শর্মাদের🍒। ফের ব্যাটিং ব্যর্থতাই ডোবাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। যার নিটফল, শনিবার (২৯ মার্চ) গুজরাট টাইটান্সের দেওয়া ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে মুম্বইয়ের ইনিংস শেষ হয়ে গেল ৬ উইকেটে ১৬০ রানে। ৩৬ রানে জয় ছিনিয়ে নিল গুজরাটের দল। এটি শুভমন গিলদের মরশুমের প্রথম জয়। প্রথম ম্যাচে তারা পঞ্জাব কিংসের কাছে হেরেছিল।
সুদর্শনের লড়াইয়ে ১৯৬ করে গুজরাট
♔শনিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে প্রাক্তন ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন এমআই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। এদিন মুম্বইয়ের বড় অক্সিজেন ছিলেন হার্দিক। তিনি নির্বাসনের শাস্তি কাটিয়ে, গুজরাটের বিরুদ্ধে ২০২৫ আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেললেন। সেই ম্যাচে হার্দিক প্রথম ইনিংসে বল হাতে নজরও কাড়েন। তিনি ৪ ওভার বল করে ২৯ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। তবু শেষ রক্ষা হল না।
🌼এদিকে গুজরাটের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে শুরুর দিকে শুভমনকে কিছুটা মন্থর লাগলেও, সাই সুদর্শন আগ্রাসী মেজাজেই পেটাতে শুরু করে মুম্বইয়ের বোলারদের। শুভমন পরের দিকে কিছু ভালো শট খেললেও, বড় রান এদিনও করতে পারেননি গুজরাটের অধিনায়ক। তিনি ৪টি চার এবং ১টি ছক্কার হাত ধরে ২৭ বলে ৩৮ রান করেন। তিন নম্বরে নেমে জস বাটলারও চালিয়ে খেলার চেষ্টা করলেও, বেশীক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি। বাটলার করেন ২৪ বলে ৩৯ রান। মারেন ৫টি চার এবং একটি ছয়।
෴চার নম্বরে নেমে শাহরুখ খানও (৯) ব্যর্থ। পাঁচ নম্বরে নেমে শেরফান রাদারফোর্ড সবে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তিনিও ১১ বলে ১৮ করে সাজঘরে ফেরেন। উল্টোদিকে উইকেট পড়তে থাকলেও, সাই সুদর্শন কিন্তু এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৬৩ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৪টি চার এবং ২টি ছয়ে। এটাই গুজরাটের ইনিংসের মূল পুঁজি হয়ে ওঠে।
♊লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা রান না পাওয়ায় ২০০ রানের গণ্ডি টপকানো হয়নি গুজরাটের। রাহুল তেওয়াটিয়া কোনও বল না খেলেই রান আউট হয়ে যান। ইনিংসের শেষ দিকে পর পর তিন বলে (১৮তম ওভারের শেষ বল এবং ১৯তম ওভারের প্রথম ২ বল) তিন উইকেট হারিয়ে বসে গুজরাট। রান পাননি রশিদ খানও (৬)। সাই কিশোর করেন ১ রান। শেষ পর্যন্ত ৭ রানে অপরাজিত থাকেন কাগিসো রাবাডা। পরের দিকে হার্দিক পান্ডিয়ারা কিছুটা ভালো বল করায় গুজরাটের ইনিংস ৮ উইকেটে ১৯৬ রানেই আটকে যায়। মুম্বইয়ের হয়ে হার্দিকের ২ উইকেট ছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট, দীপক চাহার, মুজিব-উর-রহমান এবং সত্যনারায়ণ রাজু।
সূর্যের লড়াই ব্যর্থ করে হারল মুম্বই
൩রান তাড়া করতে নেমে ফের ব্যাটিং ব্যর্থতা মুম্বইয়ের। প্রথম ওভারেই তারা রোহিত শর্মার উইকেট হারায়। এদিনও ব্যর্থ হন রোহিত। তিনি ৪ বলে ৮ করে সিরাজের ডেলিভারিতে ক্লিন বোল্ড হন। পাওয়ার প্লে-তেই সিরাজ ফেরান রায়ান রিকেলটনকেও। তিনি ৯ বলে ৬ করে বোল্ড হন। ৪.৩ ওভারে ৩৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে মুম্বই শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল। তাও তৃতীয় উইকেটে তিলক বর্মা এবং সূর্যকুমার যাদব কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। ৪২ বলে ৬২ রানের পার্টনারশিপ করে তাঁরা। তবে তিলক আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। ৩টি চার এবং ১টি ছক্কার হাত ধরে ৩৬ বলে ৩৯ করে সাজঘরে ফেরেন তিলক। এর পর পাঁচে নেমে রবিন মিঞ্জ ৩ রান করে আউট হন। সূর্যও দলের ১২০ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন। মুম্বইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রান তিনিই করেছেন। তবে ২ রানের জন্য স্কাই নিজের হাফসেঞ্চুরি মিস করেন।
আরও পড়ুন: ꦜকোহলির হেলমেটে বল মারা! চেন্নাই বোলারকে এর ফল টের পাওয়ালেন কিং, সেই ভিডিয়ো হল ভাইরাল
𓂃২৮ বলে ৪৮ করে আউট হয়ে যান সূর্য। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা এবং একটি চার। হার্দিক পান্ডিয়াও এদিন ব্যর্থ হন। ১৭ বলে মাত্র ১১ করেন তিনি। মারেন একটিমাত্র চার। বরং টেল এন্ডারে নেমে নমন ধীর ৩টি চারের সৌজন্যে ১১ বলে অপরাজিত ১৮ করেন, মিচেল স্যান্টনার আবার ৯ বলে ১৮ করে অপরাজিত থাকেন। তিনি ২টি ছয়, একটি চার মেরেছেন। তবে ততক্ষণে ম্যাচ হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল মুম্বইয়ের। আসলে এদিন গুজরাটের বোলাররা খুবই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। এতে মুম্বইয়ের উপর চাপ আরও বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩৬ রানে তারা ম্যাচটি হেরে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গুজরাটের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন প্রসিধ কৃষ্ণ এবং মহম্মদ সিরাজ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন কাগিসো রাবাডা এবং সাই কিশোর।