🔯 আজকাল অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে উপার্জনের অন্যতম পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কেউ মজার ভিডিয়ো বানাচ্ছেন, কেউ জীবনবোধের, কেউ আবার রান্নার তো কেউ ট্রাভেল ব্লগ। বাদ যাচ্ছে না NRI-দের জীবন যাপন থেকে অশ্লীল কনটেন্ট। কখনও কখনও এই শেষ ভাগের কনটেন্ট দেখলে অস্বস্তি হয়, বিরক্ত লাগে বইকি। এবার এই গোটা বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন ঝিলম গুপ্ত। সোজা ভাষায় জানালেন এই চটুল কনটেন্টের মাধ্যমে সহজে লাইক, ভিউজ পাওয়া গেলেও সেটার কুপ্রভাব আছে।
কী লিখলেন ঝিলম?
ꦐঝিলম গুপ্ত এদিন সাফ ভাষায় জানিয়ে দেন তিনিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উপার্জন করলেও আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কনটেন্টের নামে যা চলছে সেটাকে তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর মতে এগুলো ছোটদের উপর কুপ্রভাব ফেলে।
ജএই বিষয়ে ঝিলম এদিন লেখেন, 'বুকের খাঁজ, খিস্তি ও ভিউ, একটি প্রেমকথা! যে থালায় খাচ্ছ, সেই থালাতেই ফুটো করতে বসেছ? এই প্রশ্নটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিতেই পারে কেউ, কারণ যে প্ল্যাটফর্মে বসে কাজ করি, সেই প্ল্যাটফর্মের নামেই নিন্দার খাতা খুলে বসেছি যখন। তবে কথা হচ্ছে, আমি আমার বাপেরও ভুল হলে ধরি, তো ফেসবুক তো কোন ছাড়। তো যা বলছিলাম ও কেন বলছিলাম… আজ আমি ঘটনাচক্রে তিন চারটি ভিডিয়ো আমার ফিডে আসতে দেখি এবং সেই সবকটিই একই জাতের। একটিতে এক বছর চল্লিশ বা একচল্লিশের বিবাহিতা মহিলা একটি টাইট ব্লাউজ পরেছেন, যার ওপর নীচের দরকারী বোতামগুলো খোলা এবং মাঝের একটি বোতাম আটকানো। নিজের স্তনযুগলকে তিনি এই একটি টাইট ব্লাউজকে ব্যবহার করে দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন বোঝাই যাচ্ছে। ব্লাউজ পরেছেন কিন্তু শাড়ি পরেননি। একটি বছর চল্লিশ বা একচল্লিশের মহিলা (বিবাহিতা কি না বুঝিনি) শাড়ি পরা শেখাচ্ছেন। কিন্তু ভিডিওর ধরন দেখে মনে হলো শাড়ি খোলা শেখাচ্ছেন।….' তিনি আরও লেখেন, 'এই তিনটে ভিডিয়োর একটাই প্যাটার্ন, তিনটি ভিডিয়োতেই প্রধান শিল্পী একজন মহিলা যার বয়স চল্লিশ বা তার আশেপাশে। এঁরা হয় নোংরা সস্তার ফ্ল্যাট বা দামি চকচকে ফ্ল্যাটে থেকে এই ভিডিয়োগুলি তৈরি করেন। এদের ভিডিয়োতে প্রধান কনটেন্ট হচ্ছে এদের দেহের কিছু অংশ। এই তিনটে ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে কমেন্টও কমন। বেশির ভাগ পুরুষই এদের দর্শক। তারা পরপর চাইছেন ফোন নম্বর। আর কিছু মহিলা ধিক্কার জানিয়ে চলে এসেছেন।'
🐻ঝিলামের মতে, 'ফেসবুক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা মানুষের দ্বারা রিপোর্ট করা পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তবে অবশ্যই খতিয়ে দেখে। কখনও আবার নিজেই বুঝে সেনসিটিভ কনটেন্ট সরিয়ে দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না, এই মহিলাদের ভিডিয়োর বেলায় এসে এই প্ল্যাটফর্মের কী হয়? কনটেন্টের নামে যে নোংরামিকে নরমালাইজ করা হচ্ছে, তার ফলাফল আগামী দিনে হতে চলেছে ভয়ঙ্কর।'
⭕এই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর লেখেন, 'আমার খুব কষ্ট হয়। তেরো বছরের আমি আর আমার বন্ধুরা পাড়ায় ছুটোছুটি করে খেলতাম। আমাদের ব্যাট বলের চক্করে লোকের বাড়ির কাঁচ ভেঙেছে কত। বাড়িতে সেই খবর গেলে বকুনি খাব ভেবে ভয়ে ভয়ে থাকতাম। আর আজ, হায় রে তেরো বছর! রাস্তায় খিস্তি এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। শুধু দোষ হয়ে গেল মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে চুমু খাওয়া দুটো ছেলেমেয়ের। শ্যাওড়াফুলির ওপর দিয়ে যখন তারকেশ্বরগামী ট্রেন যায়, সেই ট্রেন থেকে ওখানকার একটি পুরনো যৌনপল্লী দেখতে পাওয়া যায়। সেখানকার যৌনকর্মীরা সেখানে কেউ এসেছেন ভাগ্যের ফেরে আবার কেউ দারিদ্র্যের তাড়নায় আর কোন পথ না পেয়ে। কিন্তু যখন ট্রেন যায়, এই পল্লীর বাসিন্দারা শাড়ির আঁচল দিয়ে বা ওড়না দিয়ে নিজেদের মুখ ঢাকেন। অথচ এদের যৌনকর্মী হওয়ার সরকারি পরিচয় পত্র আছে। উল্টো দিকে নির্লজ্জের মতো নিজের শরীর সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখিয়ে নিজেদের প্রোফাইলে ডিজিটাল ক্রিয়েটর লিখে রাখা জঞ্জালদের লাখ লাখ ভিউ। আমি কষ্ট পাই। আপনি ভাবতেই পারেন ন্যাকামি করছি কষ্ট পাই কষ্ট পাই লিখে। ভাবতেই পারেন। আমার কিছু যায় আসে না। ঠিক যেমন এই বদমাইশ জঞ্জালগুলো যাই অপরাধ দিনের পর দিন করুক, তাতে ফেসবুক বা সমাজের আসলে কিছু যায় আসেনা'
ꦜতাঁর পোস্ট বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। প্রায় ২ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে। বহু মানুষ সমর্থন জানিয়েক তাঁকে।
কে কী বলছেন?
𒆙এক ব্যক্তি লেখেন, 'এই প্রথম একজন স্বনামধন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে এত স্পষ্ট শব্দে এই জঘন্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে দেখলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ফেসবুক নামক প্ল্যাটফর্মটি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, শুধুই বিনোদন হয়ে থেকে যায়নি।' আরেকজন লেখেন, 'দ্বিচারিতাই এখন ট্রেন্ডিং। আর গালাগালি জলভাত। অবক্ষয় অবশ্যম্ভাবী। তবুও হাল ছাড়ব না। ব্যস।' তৃতীয় জনের মতে, 'এই ধরনের ভিডিয়োগুলো নাকি ফেসবুকের community guideline standard মেনটেইন করে। তাই রিপোর্ট করলেও ভিডিয়োগুলো সরানো হয় না।' চতুর্থ জন লেখেন, 'কঠিন সত্যি কথা লিখেছ। সমাজটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে ,আমাদের প্রজন্মের বাবা মায়েরাই বহু বাড়িতে সঠিক শিক্ষা দেননি ,আসলে শিক্ষাটা একদম তলানিতে এসে ঠেকেছে, রাস্তা ঘাটে হাঁটা যায় না গালাগালির জ্বালায়।'