সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ক'দিন আগেই ভারতকে অযাচিত 'জ্ঞান' দিতে এসেছিল পাকিস্তান। সেই পাকিস্তানেই খুন করা হল হিন্দু ব্যক্তিকে। অভিযোগ, ধর্মান্তরিত না হওয়ার জেরেই সেই পাকিস্তানি হিন্দু ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ারে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে কট্টর ইসলামপন্থীরা। (আরও পড়ুন: 𓆏ইদে কালো ব্যান্ড পরে প্রতিবাদ দিল্লির জামা মসজিদে, এরই মাঝে মোদীর জন্য প্রার্থনা)
আরও পড়ুন: ⛄'দিল্লি আমার জন্মস্থান', ইদ পালন করতে ভারতে পাকিস্তানি ব্যক্তি, শুনুন তাঁর কথা…
এর আগে সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করে বলেছিলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সমর্থন করারও কোনও অধিকার ভারতের নেই। তবে এই অভিযোগ করা পাকিস্তানেই হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘুদের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে দিনকে দিন। সেখানে তাদের জীবন, সম্পত্তি, মন্দির এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এরই সঙ্গে পাকিস্তানে ক্রমেই বাড়ছে কট্টরপন্থা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সন্ত্রাসবাদ। যার জেরে হাত পুড়ছে পাকিস্তানের নিজেদেরই। এর জেরে জঙ্গিরা হামলা করছে মসজিদেও। তবে পাকিস্তান নিজেদের সমস্যার সমাধান না করে শুধু আঙুল তুলবে ভারতেরই দিকে। (আরও পড়ুন: 𝓀জয়পুরে ইদের নমাজের সময় ফুল বর্ষণ গেরুয়াধারীদের, দেখুন সম্প্রীতির সেই দৃশ্য)
আরও পড়ুন: 🧔পশ্চিমবঙ্গ ভাঙিয়ে 'অখণ্ড বাংলাদেশ' গড়তে চাওয়া উপদেষ্টার বাবার ওপর হামলা
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর লোকসভায় পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। এরই পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, তার দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কাজ করছে। বরং ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বৈষম্য ও পদ্ধতিগতভাবে সহিংসতায় উসকানির দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। এর আগে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর গত ২৮ মার্চ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, 'ভারত সেই প্রতিবেশী দেশের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারবে না, যারা ধর্মান্ধ। এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও এই কাজটা করতে পারেননি।' (আরও পড়ুন: ꦿবিহারে দুর্গা মন্দির থেকে ফেরার সময় ভক্তদের ওপর পাথর ছোড়ার অভিযোগ, জখম মহিলারা)
আরও পড়ুন: ꦚরাস্তায় নমাজ আদায় করা কি উচিত? বড় দাবি দারুল উলুম দেওবন্দের
লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে জয়শংকর আরও বলেছিলেন, 'পাকিস্তানে হিন্দু সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অসংখ্য নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা ঘটলেও পাকিস্তান সরকার তাদের রক্ষা করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেয় না। সরকার পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রাষ্ট্রসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে তাদের নিপীড়নের বিষয়টি উত্থাপন করেছে।' (আরও পড়ুন: 🍬‘কে ইন্ধন জুগিয়েছিল?’, মোথাবাড়ির অশান্তি নিয়ে বড় দাবি সাবিনা ইয়াসমিনের)
আরও পড়ুন: 🎃পাকিস্তানে 'অজ্ঞাত পরিচয়' বন্দুকবাজের গুলিতে নিহত নিষিদ্ধ সুন্নত জামাত নেতা
💜 তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে হিন্দুদের উপর ১০টি, শিখদের উপর অত্যাচারের দুটি ঘটনা এবং খ্রিস্টানদের উপর অত্যাচারের একটি ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। বিদেশমন্ত্রী হোলি উদযাপনকারী পড়ুয়াদের অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তকরণ এবং পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকদের হয়রানির একটি ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে পাকিস্তানে। জয়শংকর বলেন, 'পাকিস্তানে হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর যে অত্যাচার চলছে তা কারও কাছেই গোপন নয়। দেশে জোর করে ধর্মান্তকরণ, মন্দিরে হামলা, ভুয়ো ধর্ম অবমাননার মামলা, সংখ্যালঘু মেয়েদের অপহরণের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে পাকিস্তানে হিন্দু ও শিখদের জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে, কারণ তারা ক্রমাগত ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছেন বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।'