𒐪 সময়ের আগেই অক্সফোর্ডে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাসে এসেছেন এতটা পথ। তাই তাঁকে বিশ্রামের জন্য নিয়ে যাওয়া হল র্যানডল্ফ হোটেলে। যাওয়ার পথে লবিতে দেখতে পেলেন গ্র্যান্ড পিয়ানো। ওখানেই নিজের পা থামালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে থাকা ভারতীয় গবেষককে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এটা বাজাতে পারি?’ এমন মুহূর্ত তিনিও হাতছাড়া করতে চান না। তাই মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর আঙুলের স্পর্শে বেজে উঠল ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ গানের সুর। এখানেই বক্তব্য রাখবেন ‘সামাজিক উন্নয়ন- বালিকা, শিশু এবং নারীর ক্ষমতায়ন’ বিষয় নিয়ে।
𒆙এই আলোচনা সভার প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখলেন। আনাচে–কানাচে থাকা নানা ঐতিহাসিক বিষয় জেনে নিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সবটা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। গ্রন্থাগারেও যান। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত বিষয়ক ফ্যাকাল্টির ২৫ জন পড়ুয়া এবং গবেষকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে বাংলার সংস্কৃতি নিজের আঙুলে তুলে ধরলেন। ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’ বাজিয়ে মাতিয়ে দিলেন সকলকে। এই গ্র্যান্ড পিয়ানো হেরিটেজ। হোটেলে মুখ্যমন্ত্রীকে হলুদ ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান অক্সফোর্ডের গবেষক।
এখানে যখন সবটা ঘুরে দেখছেন তখন লন্ডনের আকাশে হালকা মেঘ জমেছে। খুব সুন্দর আবহাওয়া। যা উপভোগ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরে দেখানো হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হ্যারি পটারের শুটিং হলে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়। যা দেখে খুব খুশি হন মুখ্যমন্ত্রী।🌠 প্রাচীন পিয়ানোতে ‘প্রাণ ভরিয়ে, তৃষা হরিয়ে’, ‘উই শ্যাল ওভারকাম’, ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ সুরের ঝঙ্কার তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা পিন পড়ার নীরবতায় শোনেন সকলে।
আরও পড়ুন: ‘পর্ষদ রাজ্যের সব স্কুলগুলির জন্য প্রশ্ন তৈরি করবে’, বড় ঘোষণা প্রাথমিক পর্ষদের সভাপতির
এরপর যখন নানা দিক ঘুরে দেখছেন তখন তাঁর চোখে পড়ে কয়েকজন পড়ুয়া একটু দূরে লুকিয়ে তাঁকে নিয়ে যেন কিছু আলোচনা করছেন। তখন সঙ্গে থাকা কর্তৃপক্ষকে সেদিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেদিকে গিয়ে আপন মনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো দেখছিলেন। তারপর রক্ষণাবেক্ষণ কেমন করে করা হয় তা জানতে চান। সব শুনে যখন বেরিয়ে আসছেন তখন ওই পড়ুয়াদের কথা কানে আসে। তাঁরা বলছেন, ⛎‘দিস ইজ মমতা ব্যানার্জি। দ্য আয়রণ লেডি চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল।’ সব শুনলেন। কিন্তু তাতে ভেসে গেলেন না।