অক্সফোর্ডে মমতা বন্দ🍌্যোপাধ্যায়ের ভাষণের মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, সেটার নেপথ্যে বামেরা আছে বলে দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। সেইসঙ্গে যে কায়দায় বিক্ষোভকারীদের সামলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তারও প্রশংসা করেছেন শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য দাবি করলেন, ব্রিটেনে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এফএফআইয়ের যে শাখা আছে, সেটির তরফে আগেই মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটা করতে না পেরে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময় হাজির হয়ে সিপিএমের ‘উচ্চিংড়ে’-রা অসভ্যতামি করলেন বলে অভিযোগ করেছেন দেবাংশু। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সেই বিষয়টি সামলেছেন। হাসিমুখে সিপিএমের ‘উচ্চিংডꦑ়ে’-দের মুখে মমতা ‘জুতো মারলেন’ বলেও দাবি করেন দেবাংশু।
‘সিপিএম জানোয়ারদের সংগঠন’, তোপ দেবাংশুর
তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধানের কথায়, 'সিপিএম কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি একটি ভারত-বিরোধী, বঙ্গ-বিরোধী, মানবতা-বিরোধী, অসভ্য, বর্বর, মানবরূপী জানোয়ারদের সংগঠন। দিদিকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই অসীম ধৈর্য দেখ🌟ানোর জন্য। আপনার জায়গায় আমি থাকলে পারতাম না। আপনি হাসিমুখে যে জুতোগুল🥃ো ওদের মুখে মেরেছেন, সেই প্রত্যেকটা জুতোর বাড়ি আসলে ওদের বাংলার নেতাগুলোর মুখে পড়েছে। বাংলা সবরকম ভাবে এর হিসেব নেবে। ভোটের আগে, ভোটের সময় এবং ভোটের পরে।
মমতা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, বললেন দেবাংশু
দেবাংশু আরও বলেন, ‘লন্ডনে থাকা নিজেদের অসভ্য লোকগুলোকে দিয়ে এসব করিয়ে কি সিপিএম শূন🐲্য থেকে ১ হবে? মুখ্যমন্ত্রী শুধু হেসে-হেসেই যা পালটা দিলেন, তাতে বাংলা, ভারতের পাশাপশি বিশ্ব মঞ্চেও ধিকৃত হল সিপিএম। সিপিএমের কফিনে শেষ পেরেকটা আজ পড়ল..বাকিটা বাংলা বিচার করবে।’ সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মমতা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে ভাষণ দিচ্ছিলেন না। তিনি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব, দেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তারপরও এরকমভাবে অপমান করা হল বলে চূড়ান্ত উষ্মাপ্রকাশ করেন দেবাংশু।
‘ফেসবুকের প্রচারের জন্য নাটক’, তোপ কুণালের
একইসুরে তৃণমূল নেতা তথা মমতার সফরসঙ্গী কুণাল ঘোষ বলেন, 'অক্সফোর্ডে ছ'টা বাম-রামের পরিকল্পিত অসভ্যতা উড়িয়ে ছক্কা হাঁকালেন মমতা। ছ'পিস ছেলেমেয়ে ফেসবুকের প্রচারের জন্য নাটক করতে গিয়েছিল। ভেবেছিল যে সভা বানচাল হবে। পাবলিকও তেড়ে এগিয়ে যেতে তারা কার্যত পালাল। অক্সফোর্ꦇড জানিয়েছে এরা তাদের ছাত্র নয়। বহিরাগত। মমতাদি ঠান্ডা মাথায় এদের উড়িয়ে অসাধারণ ভাষণ দিলেন। উপস্থিত জনতা, ছাত্রছাত্রীদের উষ্ণতায় ভাসলেন।'
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময় বিশৃঙ্খলা, ঠিক কী হয়?
আর যে বিশৃঙ্খলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবাংশু, কুণালরা এরকম মন্তব্য করেছেন, সেটা বৃহস্পতিবার কেলোগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সময় হয়েছিল। ভাষণের প্রথম ২০-২৫ মিনিট সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের♛ শিল্পের পরিস্থিতি নিয়ে মমতা কথা বলতেই কয়েকজন পালটা প্রশ্ন ধেয়ে আসে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের খুন ও ধর্ষণের ঘটনা নিয়েও মমতাকে প্রশ্ন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করা হয় ‘মিথ্যেবাদী’ বলেও। যদিও তাতে মেজাজ হারাননি মুখ্যমন্ত্রী। ঠান্ডা মাথায় ও হাসিমুখে পুরো পরিস্থিতির সামাল দেন।