💛 আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যের একমাত্র জনপ্রতিনিধি হিসাবে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছিলেন। তাঁর পদক্ষেপের জেরে তোলপাড় পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। একের পর এক প্রশ্নে বিদ্ধ হয়েছিল শাসকদল তৃণমূল। দুর্নীতির দায়ে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের পর আরও চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন করলেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন অধিকর্তা জহর সরকার। জানালেন, তাঁর অনুমতি না নিয়েই ২০২১ সালে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমল।
𒅌টিভি নাইন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক সায়ন্ত ভট্টাচার্যকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জহর সরকার দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব পেয়ে তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করছিলেন তখনই তাঁর নাম টেলিভিশন ও রেডিয়োয় ঘোষণা করে দেয় তৃণমূল। জহরবাবু বলেছেন, ‘আমি এই দলের সদস্য হিসাবে চাঁদা দিয়ে কোনও দিন ঢুকিনি। আমাকে মুখ্যমন্ত্রী ও দলনেত্রী নিজে ফোন করে আসতে বলেছিলেন। আমি একটু ইতস্তত করছিলাম। যতক্ষণ ইতস্তত করছিলাম ততক্ষণে শুনলাম রেডিয়োতে - টিভিতে জানিয়ে দিয়েছে। টিভি - রেডিয়োতে জানানোর পরে আমি যদি গিয়ে বলি না আমি যাব না হয় লোকে বলবে ন্যাকা, না হলে বলবে নিউজ় চাইছে, নাহলে অন্য কোনও মতলব আছে। আর সরাসরি ঝগড়া করতে চাইছে।’
❀তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম, যখন হয়েই গেছে, আমাকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছে, সংসদে বাংলার হয়ে প্রশ্ন তোলা আপনারা দেখবেন আমি কত বার সওয়াল করেছি। আমার মতো অত সওয়াল বোধ হয় ৩ বছর আর কেউ করেনি। আমাকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছিল সেটা করেছি। তৃণমূলের চরিত্র কী আমি জানতাম। আমি জিনিসটা প্র্যাক্টিকালি নিয়েছি। সব দলই তো ওই।’
♒নিজের তৃণমূল সাংসদ হওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করে জহরবাবু বলেন, ‘২০২১ সালে কিন্তু বাংলার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মমতা ব্যানার্জিকে সম্পূর্ণ ভোট দিয়ে প্রচুর ভোটে জিতিয়েছেন। তার মানে সব দলকে তাঁরা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। বামফ্রন্ট - কংগ্রেস শূন্য। যা বিশ্বাস করা যায় না। বাংলার মানুষ তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় ভূমিকায় দেখতে চেয়েছিল। আমি তখন গিয়েছি। আমি কোনও ফৌজদারি অপরাধ করিনি।’
🐻তবে তৃণমূল সাংসদ হিসাবে যে কোনও ভাবেই স্বস্তিতে ছিলেন না তাও জানিয়েছেন জহরবাবু। তিনি বলেন, ‘আমি সাংসদ হওয়ার ১ বছর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়িতে এত টাকা পাওয়া গেল। আমি ছাড়া আর কোনও সাংসদ সেব্যাপারে মুখ খোলেননি। আমি টিভির ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছি, এটা অন্যায়। এটা পচা গলা ব্যাপার। এদের এক্ষুণি ব্যবস্থা না করা হলে পার্টির ক্ষতি হবে। সেই নিয়ে অনেক তিরস্কার শুনতে হয়েছে। তখনও আমি বেরিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা করেছিলাম। তখন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বললেন, আপনি যে ভাবে সংসদে বলছেন সেটা আমাদের খুব দরকারি। আপনি সংসদের ব্যাপারটা দেখুন, রাজনীতি নিয়ে বেশি ভাববেন না। আমি তার পর ১ বছর সংসদ নিয়েই রইলাম। তার পর আবার দেখি, যে কে সেই। পানাপুকুর আবার পানায় ভর্তি হয়ে য়াচ্ছে। গা চুলকোতে আরম্ভ করল। চারিদিকে তাকিয়ে দেখি, পঞ্চায়েতের নেতা, যার কুড়ে ঘর ছিল না, সেও তিন তলা বানিয়ে নিচ্ছে। চলছেটা কী? তখন দেখলাম এখানে আর থাকা যায় না।’
♏জহরবাবুর মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ বলেন, ‘২০২১ সালে তৃণমূলের ব্যাপক কারচুপি ও ভোট লুঠের পরেও বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ আবার তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলে বিজেপির ওপরে আস্থা রেখেছেন। জহরবাবু নিশ্চই কোনও জাতক্রোধ আছে যে উনি বিজেপিকে বিরোধী হিসাবে দেখতে পান না। সঙ্গে আরেকটা কথা বলব, শুধু জহরবাবু নন, ভবিষ্যতে তাঁর মতো অনেককেই কেন তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন তার ব্যখ্যা দিতে হবে। সেদিন এসে গিয়েছে।’