স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা আবারও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরে ব্যাপক হইচই পড়ে গিয়েছে। এই বিতর্কের মাঝে, কুণাল কামরা একটি বিবৃতি জারি করে তার অবস্থ🌠ান স্পষ্ট করেছেন। এই বিবৃতিতে তিনি ক্ষমা চাওয়া থেকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন এবং বাক্স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, তিনি যাঁরা তাঁর নম্বর ফাঁস করছে এবং তাঁকে হুমকি দিচ্ছে তাঁ🐬দের নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। কুণাল কামরা বলেছেন, ‘আমি যা বলেছি, তাই অজিত পাওয়ারও একনাথ শিন্ডের সম্পর্কে বলেছিলেন।’
কামরা তাঁর নতুন কমেডি শো ‘নয়া ভারত’-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক গানের মাধ্যমে শিন্ডেকে লক্ষ্য করেছিলেন। এই গানে তিনি ২০২২ সালে শিবসেনা -র বিভাজন এ𒁃বং শিন্ডের বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে তাকে ‘গদ্দার’ বলেছিলেন। এই মন্তব্য শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার কর্মীদের কাছে অপ্রীতিকর লেগেছে, যার পর রবিবার রাতে মুম্বাইয়ের খার এলাকায় অবস্থিত হ্যাবিট্যাট স্টুডিয়োতে ভাঙচুর করা হয়, যেখানে এই শোটি চ🌳িত্রায়িত হয়েছিল।
আমি ভয় পাব না: কামরা
কামরা বাক্স্বাধীনতার উপর প্রশ্ন তুলে মিডিয়াকেও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মিডিয়াকে মনে রাখতে হবে যে ভারত প্রেসের স্বাধ🐽ীনতার নিরিখে ১৫৯তম স্থানে রয়েছে।’ তিনি বলেছেন, ‘আমি ভয় পাব না এবং লুকিয়ে থাকব না। আমি বিছানার নিচে লুকিয়ে এই বিতর্ক শেষ হওয়ার অপেক্ষা করব না।’
কামরা আইনের সমান ব্যবহারের উপর প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘আমি পুলিশ এবং আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করব, কিন্তু কি আইন তাঁদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ এবং সমানভাবে প♐্রযোজ্য হবে, যারা একটি মজার কারণে রেগে গিয়ে ভাঙচুরকে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেছে? এবং বিএমসির সেই অনির্বাচিত সদস্যদের বিরুদ্ধে, যাঁরা কোনও নোটিশ ছাড়াই𒐪 আজ হ্যাবিট্যাটে এসেছিল এবং স্থানটি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দিয়েছে?’
পরের শো এলফিনস্টন ব্রিজে করব: কামরা
তিনি হ্যাবিট্যাট স্টুডিওতে হামলার নিন্দা করে বলেছেন, ‘একটি বিনোদন স্থল কেবল একটি মঞ্চ।ꦛ হ্যাবিট্যাট (বা অন্য কোন স্থান) আমার হাস্যরস൲ের জন্য দায়ী নয়, এবং এটি আমার বলা বা করা কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কোনও রাজনৈতিক দলের একজন কমেডিয়ানের কথার জন্য একটি স্থানে হামলা করা ঠিক ততটাই অযৌক্তিক যতটা টমেটো বহনকারী ট্রাক উল্টে দেওয়া, কারণ আপনাকে খেতে দেওয়া বাটার চিকেন পছন্দ হয়নি।’ কামরা তাঁর পরবর্তী স্থানের জন্য মজার স্টাইলে বলেছেন, ‘সম্ভবত আমার পরবর্তী শোর জন্য আমি এলফিনস্টন ব্রিজ বা মুম্বইয়ের অন্য কোনও জায়গা বেছে নেব, যা দ্রুত ভেঙে ফেলার প্রয়োজন।’
এই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘যౠে রাজনৈতিক নেতারা আমাকে পাঠ শেখানোর হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বুঝতে হবে যে বাক্স্বা▨ধীনতার অধিকার কেবলমাত্র শক্তিশালী এবং ধনীদের চাটুকারিতার জন্য নয়। একজন শক্তিশালী জনসাধারণের ব্যক্তির উপর মজা করা আমার অধিকারের প্রকৃতি পরিবর্তন করে না। যতদূর আমার জানা আছে, আমাদের নেতাদের এবং আমাদের রাজনৈতিক সার্কাসের উপর মজা করা অবৈধ নয়।’
খার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের
ঘটনার পর, শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) -র বিধায়ক মুরজি প্যাটেল কামরার বিরুদ্ধে খার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছ𒐪ে। এছাড়াও, যুবসেনার কর্মীরা কামরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন এবং তার ছবি পুড়িয়ে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘কুণাল কামরা উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের🌠 অপমান করেছেন। এ ধরনের নিম্নমানের কমেডি সহ্য করা হবে না।’
বিতর্ক বাড়ার পর, কুনাল কামরা সোমবার মুম্বই পুলিশের সাথে কথা বলেছেন এবং ত🀅ার পক্ষ তুলে ধরেছেন। সূত্রের মতে, তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন যে তাঁর বক্তব্য নিয়ে তার কোনও অনুশোচনা নেই এবং আদালত তাঁকে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্ষমা চাইবেন না। কামরা এটাও বলেছেন, ‘আমি সেটাই বলেছি যা মহারাষ্ট্রের প্রথম উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার একনাথ শিন্ডের সম্পর্কে বলেছিলেন।’ এই সাথে, তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘যারা আমার নম্বর ফাঁস করছে বা আমাকে হুমꦅকি দিচ্ছে, তারা জেনে গেছে যে অজানা কলগুলি আমার ভয়েসমেইলে চলে যায়, যেখানে তাঁদের সেই গানটি শুনতে হয় যা তারা ঘৃণা করে।’
এদিকে, বিরোধী দলনেতা এবং শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে কামরার সমর্থন করে বলেছেন, ‘গাদ্দারকে গাদ্দার বলা কোন অপরাধ নয়।🍃 কুণাল সত্যি কথা বলেছেন এবং জনগণের অনুভূতিকে প্রকাশ করেছেন।’ অন্যদিকে, শিবসেনা (শিন্ডে গোষ্ঠী) -র নেতারা কামরাকে দুই দ🌸িনের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন, নয়তো ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এই বিতর্ক মহারাষ্ট্রের রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে 🔜তুলেছে। যেখানে একদিকে মহাযোতি গঠবন্ধন এটাকে বাক্স্বাধীনতার অপব্যবহার বলে মনে করছে, সেখানে অন্যদিকে মহা বিকাশ আঘাড়ি এটাকে সরকারের অসহিষ্ণুতার উদাহরণ বলে দাবি করছে।