কুম্ভ হয়ে লড়ে দিল্লি ক্যাপিটালসকে জেতালেন আশুতোষ শর্মা। সোমবার ২০২৫ আইপিএলের চতুর্থ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের𒀰 বিরুদ্ধে প্রায় হারতে বসা ম্যাচের রং একা দায়িত্ব নিয়ে বদলে দিলেন আশুতোষ। একদিকে যখন একের পর এক উইকেট পড়ে চলেছিল, বড় নামেরাও কিছু করে উঠতে পারছিলেন না, সেই সময়ে সাতে নেমে দলের হাল ধরেন ইমপ্য়াক্ট প্লেয়ার আশুতোষ শর্মা। মাথা ঠাণ্ডা রেখে রানের গতি বাড়িয়ে চলেছিলেন তিনি। ৬৫ রানে রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। ফ্যাফ ডু'প্লেসি, অক্ষর প্যাটেলরা সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে দিল্লিকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন আশুতোষ।
ꦐ১৭ ওভার শেষ হওয়ার পর জিততে হলে দিল্লিকে করতে হত ১৮ বলে ৩৯ রান। হাতে ছিল তিন উইকেট। সেই পরিস্থিতিতে ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই মিচেল স্টার্ককে ফেরান রবি বিষ্ণোই। কিন্তু এই ওভারে শেষ তিন বলে ২টি ছক্কা এবং একটি চার হাঁকান আশুতোষ। ১৭ রান আসে ওভার থেকে।
🥃১৯তম ওভারে কুলদীপ যাদব একটি চার মারেন, কিন্তু তৃতীয় বলে তিনি আউট হয়ে যান। তবে শেষ তিন বলে আশুতোষ নেন ১২ রান। একটি চার এবং ছয় মেরে। এই ওভার থেকে ১৬ রান আসে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ছয় রান। হাতে আর কোনও উইকেট ছিল না। এদিকে স্ট্রাইকে ছিলেন মোহিত শর্মা। প্রথম বলে রান হয়নি। পন্ত স্টাম্প মিস করে ভিলেন হয়ে যান। আউট হওয়ার ভ্রুকুটি কাটিয়ে, দ্বিতীয় বলে কোনও মতে এক রান নেন মোহিত। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে বিরাট দর্পে মাঠ ছাড়েন আশুতোষ। দিল্লি দলের বড় বড় নামেদের ব্যর্থতার ভিড়ে, বীরবিক্রমে লড়লেন আশুতোষ। তাঁর অপরাজিত ৩১ বলে ৬৬ রানই দিল্লির জয়ের আসল পুঁজি হয়। তাঁর এই ইনিংসে ছিল পাঁচটি করে চার এবং ছয়।
দু'শোর উপর রান করেও হারতে হল লখনউকে
ꦍএদিন লখনউ প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২০৯ রান করেছিল। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালসের তথাকথিত বড় নামেরা ল্যাজেগোবরে হয়। মূলত আশুতোষের একার লড়াইয়ে তিন বল বাকি থাকতে ১ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় দিল্লি।
মার্শ-নিকোলাস জুটির ঝড়
💦সোমবার টস জিতে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। আর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তেই গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট হারিয়ে বসেছিল লখনউ। ১৩ বলে ১৫ করে এডেন মার্করাম আউট হয়ে যান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মিচেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরান মিলে দিল্লির বোলারদের একেবারে ধুইয়ে দেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে এই জুটি দ্রুত গতিতে ৮৭ রান যোগ করেন। এতেই ভিত মজবুত হয় দিল্লির।
পুরানের ক্যাচ মিস
ღতবে সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে ভিপ্রজ নিগমের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের ডানদিকে ক্যাচ তুলেছিলেন পুরান। তখন তিনি মাত্র ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন। আর এই সহজ সেই ক্যাচ মিস করে বসেন সমীর রিজভি। আর এটাই ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়। জীবনদান পেয়ে, ঠিক তার পরের বলেই ফের ছক্কা হাঁকান পুরান। সেই ওভারে চারটি ছক্কা হয়েছিল, এর মধ্যে তিনটি ছক্কাই হাঁকিয়েছিলেন পুরান।
বড় রানের স্কোর করে এলএসজি
꧟১১.৪ ওভারে মুকেশ কুমারের বলে ত্রিস্তান স্টাবসকে ক্যাচ দিয়ে মিচেল মার্শ সাজঘরে ফিরলে সকলে ভেবেছিলেন, হয়তো লখনউয়ের রানের গতি কিছুটা কমবে। কিন্তু কোথায় কী। মার্শ ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেছিলেন। শেষপর্যন্ত ৩৬ বলে ৭২ করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল হাফডজন করে চার এবং ছয়। মার্শ আউট হলেও, পুরান ঝড় কিন্তু থামেনি। তিনি ১৩তম ওভারে ত্রিস্তান স্টাবসকে ছাতু করে নেন ২৮ রান। হাঁকান চারটি ছক্কা এবং একটি চার। প্রসঙ্গত, এই ওভারের তৃতীয় বলে ছয় মেরেই নিজের হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন পুরান।
আরও পড়ুন: 🌞ভিডিয়ো- ল্যাটা মাছ ধরছেন নাকি! পুরানের লোপ্পা ক্যাচ গলালেন রিজভি, খেসারত দিতে হল দিল্লিকে
𓂃তবে এর পরে কুলদীপ যাদব এবং মিচেল স্টার্ক মিলে পালটা আঘাত হানে লখনউয়ের উপর। ১৪তম ওভারে পন্তকে খালি হাতে ফেরান কুলদীপ। ৬ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লখনউয়ের অধিনায়ক। এই প্রথম তিনি আইপিএলে ডাক করলেন। ১৫তম ওভারে আবার নিকোলাস পুরানকে বোল্ড করেন মিচেল স্টার্ক। ৩০ বলে ৭৫ করে সাজঘরে ফেরেন পুরান। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল সাতটি ছয় এবং ছ'টি চারে। এই দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দিল্লির রানের গতি কিছুটা কমে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ডেভিড মিলার ইনিংসের শেষ দুই বলে ছক্কা হাঁকানোর ফলে, দিল্লির স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২০৯-এ। ১৯ বলে ২৭ করে অপরাজিত থাকেন মিলার। দিল্লির বাকি ব্যাটাররা অবশ্য উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।
༒দিল্লির হয়ে ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ যাদব। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নিগম এবং মুকেশ।
শার্দুলের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন
🐻২০২৫ মেগা নিলামে শার্দুল ঠাকুর অবিক্রিত ছিলেন। তবে লখনউয়ের মহসিন খান চোট পেয়ে পুরো মরশুম থেকে ছিটকে গেলে, তারা শার্দুল ঠাকুরকে দলে নেয়। আর এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই শার্দুলের হাতে বল তুলে দেন ঋষভ পন্ত। আর প্রথম ওভারেই দিল্লি ক্যাপিটালসকে বড় ঝটকা দেন শার্দুল। ওভারের তৃতীয় বলে জেক ফ্রেজার-ম্যাকগর্ককে (১ রান) ফেরান। পঞ্চম বলে আউট করেন অভিষেক পোড়েলকে (০)। এই ওভারে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লিকে ব্যাপক চাপে ফেলে দেন শার্দুল। সেই সঙ্গে যেন সবাইকে জবাব দেন, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি।
ব্যর্থ দিল্লির টপ এবং মিডল অর্ডার
💮প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর, দ্বিতীয় ওভারে আরও একটি উইকেট হারায় দিল্লি। মনিমরণ সিদ্ধার্থ ফেরান সমীর রিজভিকে (৪ রান)। ১.৪ ওভারে তখন দিল্লির স্কোর মাত্র ৭। পড়ে গিয়েছে ৩ উইকেট। সেই সময়ে চতুর্থ উইকেটে ওপেনার ফ্যাফ ডু'প্লেসি এবং অক্ষর প্যাটেল মিলে কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই চতুর্থ উইকেট হারায় দিল্লি। অক্ষরকে ফেরান দিগ্বেশ রাঠি। ১১ বলে ২২ করে আউট হন অক্ষর। সপ্তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন ডু'প্লেসিও। রবি বিষ্ণোইয়ের ডেলিভারিতে ১৮ বলে ২৯ করে আউট হন ফ্যাফ। তবে ছয়ে নেমে ত্রিস্তান স্টাবস কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ২২ বলে ৩৪ করেন।
আশুতোষের একার লড়াই
𓃲এরপর সাতে ব্যাট করতে নেমে মাটি আঁকড়ে থেকে লড়াই করেন আশুতোষ শর্মা। একদিকে উইকেট পড়লেও, অঙ্ক কষে তিনি ব্যাট করতে থাকেন। কোনও রকম তাড়াহুড়ো করেননি। ঠাণ্ডা মাথায় বড় শট মেরেছেন। প্রয়োজনে সিঙ্গেল নিয়েছেন। দিল্লির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আশুতোষই। তাঁর ৬৬ রানের ইনিংসই দিল্লিকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। আটে নেমে আশুতোষকে কিছুটা সাহায্য করেছিলেন নিগমও। সপ্তম উইকেটে এই দুই প্লেয়ার দিল্লিকে কিছুটা অক্সিজেন দিয়েছিলেন। তবে ১৫ বলে ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান নিগম। কিন্তু হাল ছাড়েননি আশুতোষ। শেষ পর্যন্ত দিল্লি ক্যাপিটালসকে জিতিয়ে বাজিগর হন তিনি।