সাহিত্যিক সলমন রুশদিকে হামলার ঘটনায় দোষীসাব্যস্ত করা হল হাদি মাটারকে। সংবাদসংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল শাস্তির মেয়াদ ঘোষণা করবেন নিউ ইয়র্কের ▨বিচারক। আর খুনের চেষ্টার যে ধারায় লেবাননের বংশোদ্ভূত হাদিকে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে, তাতে তার সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। বিচারক যখন দোষীসাব্যস্ত করেছে, তখন অবশ্য চোখে-মুখে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না হাদির। নিজের জায়গায় মাথা নীচু করে বসেছিল। বিচারক নিজের বক্তব্য শেষ করার পরে যখন হাদিকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতকক্ষ থেকে বের করে আনা হচ্ছিল, তখন সে শুধু বিড়-বিড় করে বলে ওঠে, 'ফ্রি প্যালেস্তাইন' (প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করো)।
আর হাদিকে যে দোষীসাব্যস্ত করা হয়েছে, সেটার ক্ষেত্রে রুশদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২২ সালের ১২ অগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার ঠি🌠ক আগে তাঁর উপরে হামলা চালিয়েছিল হাদি। মাথা, ঘাড়, বাঁ-হাতে একের পর এক ছুরির কোপ চালিয়েছিল। তার জেরে সাহিত্যিকের ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকস্থলী, অন্ত্র। আর সেইসব বিষয় নিয়ে আদালতে সাক্ষ্যও দেন ৭৭ বছরের সাহিত্যিক।
হেজবুল্লার নেতার ভাষণ থেকে রুশিদকে হত্যার ‘অনুপ্রেরণা’
১) লেবাননের নাগরিকত্বের পাশাপাশি হাদি মার্কিন নাগরিকও বটে। নিউ জার্সির ফেয়ারভিউয়ের বাসিন্দা ছিল। ২০০৬ সালে রুশদির ꦕমৃত্যুর ফতোয়া দিয়ে জঙ্গি সংগঠন হেজবুল্লার নেতা যে ভাষণ দিয়েছিল, তাতেই অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতীয়-ব্রিটিশ সাহিত্যিক উপরে হামলা চালিয়েছিল ২৭ বছরের হাদি।
২) সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাদি জানিয়েছিল য💧ে রুশদি যে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, তার বিজ্ঞাপন 𒀰দেওয়া হয়েছিল। সেটা দেখেই নিউ জার্সির বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কারণ সে রুশদিকে পছন্দ করে। তার দাবি, ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করেছিলেন রুশদি।
'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' ও ইরানের নেতার ফতোয়া
আসলে রুশদি যে একাংশের রোষানলে আছে, সেটার নেপথ্যে আছে মূলত 'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস'। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের তরফে দাবি করা হয় যে রুশদির বইয়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে। এমনকী ১৯🥀৮৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছিল ইরানের নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনেই।
'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' পড়েছে হাদি?
আর সেই আয়াতোল্লাহের বিষয়েে হাদি বলেছেন, 'আমি আয়াতোল্লাহকে শ্রদ্ধা করি। আমার মতে, উনি দুর্দান্ত মানুষ। তাঁর 🎶ব্যাপারে আমি এটুকুই বলতে পারি।' আর ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-র প্রসঙ্গে রুশদির উপরে হামলা চালানো হাদি বলেছে, 'আমি কয়েকট𓃲া পৃষ্ঠা পড়েছি। আমি পুরো বইটা পড়িনি।'