♏ সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হতেই দেশের নানা প্রান্তে শুরু হল বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, আন্দোলন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল, ২০২৫) কলকাতা, চেন্নাই ও আমেদাবাদে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। শুক্রবারের নমাজ পড়ার পর ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এই বিক্ষোভে সামিল হন।
ཧএদিন কলকাতায় প্রতিবাদের বহর ছিল যথেষ্ট বড়। সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে - অসংখ্য মানুষ হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হন। তাঁদের হাতে নানা ধরনের বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা গিয়েছে। তাতে লেখা ছিল - 'আমরা ওয়াকফ সংশোধনী মানছি না', 'ওয়াকফ বিল প্রত্যাহার করুন' ইত্য়াদি। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর দাবি, কলকাতায় এই সঙ্গবদ্ধ জমায়েতের নেপথ্য়ে ছিল 'জয়েন্ট ফোরাম ফর ওয়াকফ প্রোটেকশন' নামে একটি সংগঠন।
🌳গুজরাটের আমেদাবাদেও এদিন ওয়াকফ সংশোধনীর বিরোধিতায় পথে নামেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। সেখানে অবশ্য় আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের প্রত্যাঘ্যাত ছিল চোখে পড়ার মতো। এএনআই-এরই প্রকাশ করা একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ওয়াকফ সংশোধনীর প্রতিবাদ জানিয়ে যে প্রবীণরা রাস্তায় বসে রয়েছেন, তাঁদেরও জোরজবরদস্তি সেখান থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে গুজরাট পুলিশ।
𝓀প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের একই ছবি ধরা পড়েছে দক্ষিণী শহর চেন্নাইয়ে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন, বয়সে নবীন রাজনৈতিক দল - তামিলাঙ্গ ভেত্তরি কাঝাগাম (টিভিকে)।
🌠টিভিকে কর্মীরা শুধু চেন্নাই নয়, সেইসঙ্গে তামিলনাড়ুর অন্যান্য বড় শহরেও বিপুল আকারে জমায়েত করেন। আন্দোলনের ঝাঁঝ ছড়িয়ে পড়ে কোয়েম্বাটোর এবং তিরুচিরাপল্লির মতো শহরেও। বিক্ষোভকারীরা সমবেতভাবে স্লোগান তোলেন - 'ওয়াকফ বিল প্রত্যাহার করুন', 'মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নেবেন না' প্রভৃতি।
♐তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে ওঠা তামিল সুপারস্টার বিজয় রাজনীতির ময়দানে 'কালো ঘোড়া' হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ওয়াকফ বিল আদতে 'অগণতান্ত্রিক'। তাঁর সাফ কথা, এই বিল ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
🧸অন্যদিকে, ওয়াকফ বিল নিয়ে লাগাতার সুর চড়াচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, বাংলার মুসলমানদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে দেবেন না। প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর মতোই আগামী বছরই ভোটের ময়দানে নামবে পশ্চিমবঙ্গ। তার আগে ওয়াকফ সংশোধনী নিঃসন্দেহে একটি বিরাট রাজনৈতিক ইস্যু হতে চলেছে।
ꦗএদিকে, জাতীয়স্তরে বিজেপির প্রধান বিরোধী কংগ্রেসও ওয়াকফ বিলের তুমুল বিরোধিতা করেছে। তারা বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে।
𝓀এই প্রেক্ষাপটে মমতার প্রতিশ্রুতি, কেন্দ্রে যখনই অবিজেপি সরকার গঠিত হবে, এই সংশোধনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।