🌄 মাদকের সমস্যা মোকাবেলায় বিরাট পদক্ষেপ করেছে পাঞ্জাব সরকার। এই প্রথমবারের মতো রাজ্যে কতজন মাদকাসক্ত রয়েছেন? তা জানতে শুমারি করবে পাঞ্জাব সরকার। বুধবার পাঞ্জাব রাজ্যের বাজেট পেশ করেন পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা। তখনই এই কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, পাঞ্জাব সরকার আন্তঃসীমান্ত মাদক চোরাচালান, নিরাপত্তা এবং রাজ্যে খেলাধুলার উন্নয়ন মোকাবেলায় বিশাল বাজেট বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতার সময় জানিয়েছেন, আদমশুমারির লক্ষ্য মাদকাসক্তির ব্যাপকতা, নেশামুক্তি কেন্দ্রের ব্যবহার এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা।
আরও পড়ুন෴: ‘পাঞ্জাবই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ’, জানালেন ‘অস্তিত্বহীন’ বিভাগের মন্ত্রী কুলদীপ
꧋অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগামী অর্থ বছরে পাঞ্জাবে প্রথমবারের মতো মাদক শুমারি পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই রাজ্যের প্রতিটি পরিবারে এই শুমারি চালানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তির সমস্যা দূর করার জন্য একটি কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক কৌশল তৈরিতে এই তথ্য ব্যবহার করা হবে। সরকার এই উদ্যোগের জন্য ১৫০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে।’
🙈উল্লেখ্য, পাঞ্জাবে মাদকের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় এখানে মাদক পাচার একটি বড় সমস্যা। ইতিমধ্যেই মাদক পাচার বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে রাজ্যে। এই আদমশুমারির মাধ্যমে সরকার মাদকের অপব্যবহারের বিস্তার বোঝার এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিমা বলেছেন, ‘মাদক পাঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। শুধু শক্তি ও অস্ত্র দিয়ে নয়, তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবেও এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’
ꦇএদিকে, ২০২৫-২৬ সালের পাঞ্জাবের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষকদের কল্যাণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এটিকে ‘দূরদর্শী বাজেট’ বলে উল্লেখ করেছেন চিমা। বাজেটে সরকার ৬৫ লক্ষ পরিবারকে বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের প্রতি মাসে ১,১০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আপ সরকার। তানিয়ে বাজেটে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবে চিমা বলেন, ‘এটিই একমাত্র গ্যারান্টি যা এখনও পূরণ হয়নি। তবে শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।’ পাঞ্জাব সরকারের এই বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। আম আদমি পার্টি এটিকে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও বিরোধী দলগুলি এই বাজেটকে ঋণগ্রস্ত রাজ্যের অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক বলে অভিযোগ তুলেছেন।